নৈশপার্টিতে – “তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টায় মারধর” পুলিশ এর হেপাজতে জিম প্রশিক্ষক

নিউ ব্যারাকপুরে এক জিম প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈশ পার্টিতে এক যুবতীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। যুবতীকে বাঁচাতে গেলে তাঁর এক বন্ধুকেও কাচের বোতল দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিউ ব্যারাকপুরে অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষকের বাড়ির নিচতলায় একটি জিম রয়েছে। গত শনিবার রাতে অভিযুক্ত তার বাড়িতে একটি পার্টির আয়োজন করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই যুবতীকে সে পার্টিতে আমন্ত্রণ জানায়। যুবতী পুলিশকে জানিয়েছেন, পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত কথা হত এবং ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সূত্রেই তিনি তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে পার্টিতে গিয়েছিলেন।

অভিযোগ, পার্টি চলাকালীন মদ্যপ অবস্থায় অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষক আচমকাই যুবতীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। এমনকি তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। যুবতী বাধা দিলে তাঁকে মারধরও করা হয়।

সেই সময় যুবতীর সঙ্গে থাকা বন্ধু তাঁকে বাঁচাতে গেলে অভিযুক্ত তাঁকেও মারধর করেন। শুধু মারধর নয়, হাতের কাছে থাকা একটি কাচের বোতল দিয়ে ওই যুবকের মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যুবতী আরও দাবি করেছেন, এরপর অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষক ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন যাতে তাঁরা পালাতে না পারেন। তবে, কোনোমতে অভিযুক্তকে ধাক্কা মেরে দরজা খুলে তাঁরা দু’জন সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনার পর আহত বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তরুণী সরাসরি বিমানবন্দর থানায় পৌঁছন। পুলিশ আহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। পরে যুবতী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও ঘটনাস্থল নিউ ব্যারাকপুর থানা এলাকার হওয়ায়, বিমানবন্দর থানা একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করে এবং পরে তা নিউ ব্যারাকপুর থানায় স্থানান্তরিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর অভিযুক্ত গা-ঢাকা দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার ভোররাতে নিউ ব্যারাকপুরে তার বাড়ির কাছ থেকেই অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, মারধর, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আক্রান্ত যুবতীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

জোকার কলেজে ধর্ষণ-কাণ্ড সহ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনার পর নিউ ব্যারাকপুরের এই ঘটনা আবারও রাজ্যের নারী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।