নিউ ব্যারাকপুরে জিম ট্রেনার কর্তৃক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

কসবা কাণ্ড, জোকা আইআইএম-সহ একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই কলকাতার উপকণ্ঠে নিউ ব্যারাকপুরে ফের এক জিম ট্রেনারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগকারিণী তরুণীকে মারধর এবং তাঁর বন্ধুকে গুরুতর জখম করার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত জিম ট্রেনারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা রাজ্যের নারী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার মাইকেলনগরে অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষকের ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল। শনিবার রাতে তরুণী তাঁর বান্ধবী এবং এক বন্ধুকে নিয়ে অভিযুক্ত যুবকের ফ্ল্যাটে যান। অভিযোগ, সেখানেই মদ্যপ অবস্থায় ওই যুবক তরুণীর বান্ধবীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
তরুণীর দাবি, তিনি এবং তাঁর বন্ধু বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাঁদের ওপর চড়াও হয়। মারধর শুরু করে এবং বাধা দিতে গেলে তাঁর বন্ধুকে কাচের বোতল ও ঘুষি দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়, যার ফলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তরুণী সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা বের হতে পারেননি। তরুণী বলেন, “আমার সাথে রীতিমতো রেপ করার চেষ্টা হয়েছিল। আমি চেঁচাচ্ছি বাঁচাও বাঁচাও করে। কিন্তু গেট লক, আমরা বেরোব কী করে? ও গেটটা দেখলাম লক করে দিল। লক করার পর ওই ছেলেটাকে রীতিমতো কাচের বোতল ছিল সামনে, ওটা দিয়ে মেরেছে। মারার পর ঘুষি মেরেছে। মারার পর দেওয়ালে লেগেছে, লাগার পর ও অজ্ঞান হয়ে গেছে। আমরা ভাবছি ও মরেই গেছে। আমি আর আমার একটা বন্ধু ছিল, মেয়ে বন্ধু, মেরেছে, মারার পর আমরা রীতিমতো ভয় পেয়ে গেছি যে আমরা বাঁচতে পারব কি এখান থেকে। বলছে তোদেরকে আজকে যাচ্ছেতাই ভাবে নষ্ট করব। ও ভেবেছে একটা ছেলেকে মেরে দিয়ে আমাদের উপর অত্যাচার করবে এবং করেওছে। সেটা পারেনি, যেটা ওর উদ্দেশ্য ছিল।”
কোনওরকমে তাঁরা তিনজন ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর নির্যাতিতা তরুণী এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত জিম ট্রেনারকে আটক করেছে।
অভিযোগকারিণী তরুণীর আইনজীবী অমর্ত্য দে জানিয়েছেন, দায়ের করা অভিযোগে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, খুনের চেষ্টা এবং হেনস্থার মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগকারীণির বয়ান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আটককৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা, কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণ এবং জোকা আইআইএম-এ মনোবিদকে ধর্ষণের অভিযোগের পর নিউ ব্যারাকপুরের এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।