সরকারি কর্মীদের সরাসরি Whatsapp এ জরুরী নির্দেশ কেন্দ্রের, রেগে আগুন মুখ্যমন্ত্রী? কি নির্দেশ এলো?

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক স্তরকে পাশ কাটিয়ে জেলাস্তরের সরকারি কর্মীদের সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক শিবির থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের নির্দেশিকা রাজ্যের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। কেন্দ্র যদি জেলাস্তরের কোনও কর্মী বা আধিকারিকের কাছ থেকে কাজের রিপোর্ট চায়, তা হলে আগে মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যসচিবের মাধ্যমে সেই বার্তা পাঠানো উচিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী।

কী অভিযোগ রাজ্যের?
রাজ্য কৃষি দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি কিছু সরকারি কর্মীকে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে বলা হয়েছে। সেই গ্রুপে প্রতিদিন কাজের আপডেট ও রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এ বিষয়ে রাজ্য সরকার বা কৃষি দফতরকে কোনওরকম আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “এইভাবে জেলাস্তরে সরাসরি নির্দেশ পাঠিয়ে রাজ্য সরকারকে উপেক্ষা করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কেন্দ্র চাইলে রাজ্যের মুখ্যসচিব বা সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবের মাধ্যমে কথা বলতে পারত। কিন্তু তা না করে এভাবে কর্মীদের কাছে সরাসরি বার্তা পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর অপমান।”

রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের উত্তাপ আরও বাড়ছে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, নাকি পরিকল্পিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ?

রাজ্যের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক বলেন, “এটা নজিরবিহীন। এইভাবে কেন্দ্রীয় নির্দেশ জেলার জুনিয়র অফিসারদের কাছে সরাসরি পাঠালে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হবে। এটা প্রশাসনের নিয়ম বহির্ভূত।”

রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানানো হবে।

এই ঘটনার পটভূমিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের চাপানউতোরও রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ বহুবার অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র তার পাওনা টাকা আটকে রাখছে (যেমন: ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা)।অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পরিদর্শন দল পাঠালে রাজ্যের অসহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রও।এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সরকারি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক চরমে উঠেছে।

এই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রের মধ্যে ফের একবার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ যে রাজ্যের অধিকার ও গঠনমূলক কাঠামোর পরিপন্থী, তা বলছেন অনেক প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞও।

তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে এখন সবার নজর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *