‘শহুরে নকশাল’ দমনে কড়া পথে মহারাষ্ট্র, পাশ হল বিল! বিরোধী প্রশ্নে বুদ্ধদেবের উদাহরণ টানলেন ফড়ণবিস

রাজনীতির মূল ধারায় ‘অতিবামপন্থী’ বা তথাকথিত ‘শহুরে নকশাল’দের জায়গা নেই—এই বার্তা স্পষ্ট করে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় পাশ হল ‘বিশেষ জন সুরক্ষা বিল’। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই বিলের মাধ্যমে শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা নকশালপন্থী মতাদর্শের সংগঠিত প্রভাব প্রতিহত করতে উদ্যোগী হয়েছে।
সরকারের দাবি, এ ধরনের গোষ্ঠীগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক সংগঠনসহ নাগরিক পরিসরের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নকশাল আদর্শ প্রচারের চেষ্টা করছে। এই শহুরে নেটওয়ার্কই জঙ্গল-ভিত্তিক উগ্রবাদীদের মদত দিয়ে থাকে—এমনটাই মত সরকারের।
বিল পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“নকশালবাদকে জঙ্গলের সীমা ছাড়িয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে টেনে আনতে চাইছে কিছু সংগঠন। মহারাষ্ট্রে এমন ৬৪টি সংগঠনের অস্তিত্ব আমরা পেয়েছি, যার মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ। এই প্রবণতা রাজ্যকে ধীরে ধীরে নকশালপন্থীদের আশ্রয়স্থল করে তুলছে।”
আইন পাশ হয়ে গেলে কী হবে?
এই বিল অনুযায়ী, যারা শহুরে পরিসরে থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রশাসন। বিলটি এখন বিধান পরিষদের অনুমোদন এবং রাজ্যপালের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।
আলোচনার সময় ফড়ণবিস তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি বিজ্ঞপ্তি।তিনি বলেন, “বুদ্ধদেববাবুও শহুরে নকশালদের বিপজ্জনক বলেই মনে করেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।”
তবে আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না বামপন্থী মহল।তাদের মতে, এই বিল পাশ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে যে কোনও বিরোধী কণ্ঠস্বরকে শহুরে নকশাল তকমা দিয়ে দমন করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিরোধিতাকেও ‘রাষ্ট্রবিরোধিতা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সমালোচকেরা।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে ফড়ণবিস স্পষ্ট করেন,“এই আইনে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শকে টার্গেট করা হবে না। সিপিএম বা সিপিআই সমর্থকদের চিন্তার কিছু নেই। যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধেই এই আইন প্রয়োগ হবে।”
তবে, সরকারের এই দাবিকে ‘আশ্বাস’ বলে উড়িয়ে দিয়ে নাগরিক সমাজের একাংশ বলছে—এই ধরনের আইন অপব্যবহারের ঝুঁকি বরাবরই থেকে যায়।
অতএব, শহুরে পরিসরে উগ্র বামপন্থা রুখতে মহারাষ্ট্র সরকারের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কড়াকড়ি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে উঠছে নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রশ্নও।