মনোজিৎ কাণ্ডের ছায়া কান্দিতে, ল’ কলেজে ‘থ্রেট কালচার’, মারামারিতে আহত ২ ছাত্রী

মনোজিৎ কাণ্ডের ছায়া এবার মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দিতে। কান্দি রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র কলেজ অফ ‘ল’-তে ‘থ্রেট কালচার’-এর অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে কলেজের দখল নিয়ে মারামারি ঘটে গেল। এই ঘটনায় দুই কলেজ ছাত্রী আহত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে কলেজ চত্বরেই। আহত ছাত্রীরা হলেন সোমা শীল ও তৃণা মজুমদার।
জানা গেছে, কান্দি রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র ‘ল’ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তৃণা মজুমদার শুক্রবার দুপুরে কলেজে এসেছিলেন পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে। অভিযোগ, সেই সময় বসে থাকাকালীন তৃতীয় বর্ষের কিছু ছাত্র ও ছাত্রী এসে তাঁকে মারধর করে। তৃণার অভিযোগের তীর সোমা শীল এবং তার এক বন্ধুর দিকে।
আক্রান্ত তৃণা মজুমদারের অভিযোগ, কান্দির রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র কলেজ অফ ল-তে দীর্ঘদিন ধরেই র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, “আজকেও এর প্রতিবাদ করা হয়। আর সেই কারণেই কলেজের মধ্যেই মারধর করা হয়েছে। কলেজের দখল কে নেবে, সেই নিয়েই এই মারামারি।” তার এই অভিযোগ কলেজের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।
তবে সোমা শীল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, টিফিন করতে যাওয়ার সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং এর প্রতিবাদ করলে বিনা কারণে মারধর করা হয়। তিনি জানান, তারা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিস্মিতা নাগ। তিনি জানান, “আমরা ঘটনার কথা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা কলেজে ঘটে থাকলে সেটা অবাঞ্ছিত।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আমরা চাইব পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করবে।”
এই ঘটনা কান্দি রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র কলেজ অফ ‘ল’-এর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত সত্য এবং এর পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।