“একদম মিথ্যে খবর”-আশা ভোঁসলের মৃত্যুর গুজব, রেগে গেলেন শিল্পীর ছেলে আনন্দ

কিংবদন্তী শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুর গুজব: ক্ষোভে ফুঁসছেন পুত্র আনন্দ ভোঁসলে!
মুম্বাই, ১১ জুলাই, ২০২৫: আজ ভোরে হঠাৎ করেই খ্যাতিমান ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে গোটা সংগীতজগৎ ও তার অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তরা শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন, কেউ কেউ আবার এই খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত ভীষণ বিরক্ত হয়ে এই গুজবের প্রতিবাদে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন আশাজীর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। মায়ের মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানোয় তিনি রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়েছেন।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুর গুজবের সূত্রপাত হয় ‘শাবানা শেখ’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা একটি পোস্টের মাধ্যমে। সেই পোস্টে লেখা ছিল – “স্বনামধন্য গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যু হয়েছে।” শুধু তাই নয়, ছবির ওপর মালা পরানো এবং সামনে ধূপ জ্বালানোর মতো বিষয়ও দেখা যায়, যা গুজবকে আরও উসকে দেয়। এই ভুয়া পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর পর আরও কয়েকটি পোস্টে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর ফুরণেই আশাজীর পুত্র আনন্দ একের পর এক ফোন পেতে শুরু করেন।
এই প্রেক্ষিতেই নিজে মুখ খুলে আনন্দ ভোঁসলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “একদম মিথ্যে খবর। পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।” তার এই প্রতিবাদী মন্তব্যের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সংগীত মহলে।
উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি রাহুল দেব বর্মণের (পঞ্চম) ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে আশা ভোঁসলেকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এটি গত ২৭ জুনের ঘটনা। সেদিন কিংবদন্তী এই শিল্পী হারমোনিয়াম, ছবি এবং অসংখ্য পুরস্কার ও পদকে সাজানো এক আসরে প্রয়াত স্বামী আর ডি বর্মণকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় পঞ্চমের স্মৃতিচারণা করে তিনি সেদিন বলেছিলেন, “তার সুরে সুর মেলাতে আমার কখনো কোনো অসুবিধা হয়নি। রেকর্ডিংয়ের সময় আমি কোনোদিন সমস্যার মুখোমুখি হইনি। পঞ্চমের তৈরি করা গান খুব সহজেই গাইতাম আমি।”
আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবনও বর্ণময়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। তাদের তিন সন্তানও রয়েছে। তবে ১৯৬০ সালে সেই দাম্পত্যের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর আশা ১৯৮০ সালে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আর ডি বর্মণের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯৪ সালে পঞ্চমের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা সংসার করেছেন।
একজন জীবিত কিংবদন্তী শিল্পীর মৃত্যু নিয়ে এমন ভুয়া খবর ছড়ানো নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আবারও।