‘ডাঙ্কি রুট’ ED-র স্ক্যানারে, পাঞ্জাব-হরিয়ানায় তেড়েফুঁড়ে তল্লাশি করছে তদন্তকারীরা

শাহরুখ খানের ‘ডাঙ্কি’ বা সলমন খানের ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ সিনেমার কথা মনে পড়ে? যেখানে সিনেমার চরিত্ররা ভিসা না পেয়ে চোরাগোপ্তা পথে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যায়। কিন্তু রিল লাইফের সেই ‘ডাঙ্কি মারা’র ধারণা বাস্তব জীবনে কতটা কঠিন আর ভয়াবহ, তা উঠে এল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সাম্প্রতিক তল্লাশি অভিযানে। কেবল জীবন্ত মানুষ পার করানোই নয়, টাকা ও অঙ্গ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ এই অবৈধ রুটেই ঘটে চলেছে।

আর্থিক তছরুপের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা গত বুধবার পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার ১১টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালান। পাঞ্জাবের অমৃতসর, সাংরুর, পাতিয়ালা এবং মোগা জেলায় এবং হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্র এবং কারনাল জেলায় সন্দেহভাজন বাসিন্দা এবং ট্রাভেল এজেন্টদের বাড়ি ও অফিসে এই অভিযান চলে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২ (PMLA) অনুসারে এই তল্লাশি চালানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩১ জন ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল মার্কিন সরকার। জানুয়ারি মাসের ২৩ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে তাঁরা সকলেই অবৈধভাবে আমেরিকা ও মেক্সিকোর সীমান্ত পার করার চেষ্টা করছিলেন। সকলেই আমেরিকার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং তাঁদের জেলে পাঠানো হয়।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, হরিয়ানা ও পাঞ্জাব পুলিশের কাছে বেশ কিছু ভ্রমণ ও ভিসাপ্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মোট ১৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। ভারতে ফেরত পাঠানোর পর এই অনুপ্রবেশকারীদের বয়ান রেকর্ড করে ইডি। তাদের মুখেই কিছু নাম উঠে আসে, যাদের খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি।

জানা গেছে, ওই অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পার করার জন্য কোনো এক অচেনা ভ্রমণ সংস্থাকে মাথাপিছু ৪৫ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের সঙ্গে ওই সংস্থার কোনো প্রতিনিধির সামনাসামনি যোগাযোগ হয়নি। ইডি আধিকারিকরা অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাঙ্কের তথ্য-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে। ইডি আধিকারিকরা আশ্বাস দিয়েছেন, শীঘ্রই খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার হবে। এই অভিযান আবারও প্রমাণ করল যে, অবৈধ অনুপ্রবেশ কেবল আইনগত সমস্যা নয়, এটি মানব পাচার, আর্থিক প্রতারণা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের এক বিশাল নেটওয়ার্কের অংশ। সিনেমার ঝলমলে গল্প নয়, বাস্তবের অন্ধকার দিক উন্মোচিত হচ্ছে এই তদন্তের মাধ্যমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *