“পুলিশকে চড় সম্ভ্রমরক্ষার চেষ্টায়”-দাবি এসএফআই নেত্রী বর্ণনা মুখার্জির,পাল্টা ভিডিয়ো

কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম কোডের বিরোধিতায় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির বুধবারের সাধারণ ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে কলকাতা উত্তাল হয়ে উঠল। ধর্মঘট চলাকালীন কলেজ স্ট্রিটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এসএফআই (SFI) নেত্রী বর্ণনা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক পুলিশ অফিসারকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) এই অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যদিও bangla.aajtak.in-এর মতো কোনো সংবাদমাধ্যম এর সত্যতা যাচাই করেনি। তবে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বর্ণনা নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন।
টিএমসিপি-র প্রকাশিত ভিডিওতে বর্ণনা পুলিশকে চড় মারছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে এসএফআই বৃহস্পতিবার একটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ করেছে (এই সময়ের পক্ষ থেকেও যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। এসএফআই-এর ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক পুরুষ পুলিশ অফিসারের সঙ্গে বর্ণনা মুখোপাধ্যায়ের তীব্র বচসা চলছে। সেখানে তিনি উত্তেজিত ভঙ্গিতে পুলিশের উদ্দেশে বারবার বলছেন, “আপনি আমার গায়ে হাত দিলেন কেন?” এই ভিডিওতে বর্ণনা পুলিশের উদ্দেশে আরও কয়েকটি বাক্য বলেছেন, যা তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করার ইঙ্গিত দেয়।
সিপিএমের ছাত্র-যুবর রাজ্য দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে এই ভিডিও প্রকাশ করে এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, “পুলিশ যদি গুন্ডার মতো আচরণ করে, তাহলে একজন ছাত্রীর নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করা, আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আসল ঘটনা হলো পুরুষ পুলিশ ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে। এটা শ্লীলতাহানির সমতুল।” এসএফআই এই ঘটনাকে পুলিশের বাড়াবাড়ি এবং ছাত্রীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী এবং ছাত্রনেতা সুদীপ রাহা এই এসএফআই নেত্রীর বিরুদ্ধে ‘গুন্ডাগিরি’র অভিযোগ এনেছেন। অরূপ চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, “জোড়াসাঁকো থানায় বর্ণনাকে তলব করা হয়েছে আইনি নোটিস দিয়ে। সরকারি কর্তব্যরত আধিকারিককে শারীরিক ভাবে নিগ্রহের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহা ফেসবুকে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে, জোড়াসাঁকো থানা জামিন-অযোগ্য ধারায় বর্ণনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সেই সঙ্গে সুদীপের বক্তব্য, “সিপিএমের ক্ষেত্রেও রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনানোর রাজনীতি শেষ হোক। আইনি পথে কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব হবে।”
বর্ণনা মুখোপাধ্যায় জোড়াসাঁকো থানায় যাবেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। দেবাঞ্জন দে এই বিষয়ে বলেছেন, “যে পুরুষ পুলিশ ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করল, তারাই আবার থানায় ডাকছে! সেখানে ছাত্রীদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি আছে? থানায় যদি মহিলা পুলিশকর্মী থাকেন, তাহলে তাঁদের কলেজ স্ট্রিটে কেন মোতায়েন করা হলো না? পুলিশ আগে এ সবের জবাব দিক। তার পরে থানায় যাওয়ার প্রসঙ্গ আসবে।” এসএফআই সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।