কাঁকুড়গাছি হত্যাকাণ্ড, চার বছরেও গ্রেফতারি নেই, সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের!

কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় তদন্তে চরম গাফিলতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে (CBI) তীব্র ভর্ৎসনা করল আদালত। চার বছর ধরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা এবং দেরিতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়ার ঘটনায় সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
আদালতের রোষের মুখে সিবিআই:
শুক্রবার এই মামলার শুনানি শুরু হতেই বিচারক সিবিআইয়ের তদন্ত পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিচারকের প্রশ্ন ছিল সরাসরি, “আপনারা যে তদন্ত করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছেন, আমি কেস ডাইরি দেখেছি। আপনারা যে তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছেন, সেই তথ্যপ্রমাণ তো দুই বছর আগে পেয়েছিলেন। তাহলে কেন, চার বছর পর এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছেন?”
শুধু তাই নয়, বিচারক আরও ধারালো প্রশ্ন ছুড়ে দেন সিবিআইয়ের দিকে: “চার বছরে কাউকে গ্রেফতারের কোনও চেষ্টা করেছেন? চার বছরে কাউকে গ্রেফতারের প্রয়োজন মনে করেছিলেন?” আদালতের এই ভর্ৎসনা সিবিআইয়ের তদন্তের গতি এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অভিযুক্তদের হাজিরার নির্দেশ ও সিবিআইয়ের সময় আবেদন:
এদিন আদালতের তরফে ১৮ই জুলাই পরেশ, স্বপন, পাপিয়া-সহ মোট ১৮জন অভিযুক্তকেই সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, সিবিআইকে অভিযুক্তদের কাছে সমন ও চার্জশিটের কপি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে, এদিন সিবিআইয়ের আইনজীবীর পক্ষ থেকে এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য এক মাস সময় চাওয়া হয়। এই কথা শুনে বিচারক রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন। আদালত সিবিআইয়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যা তাদের সময় চাওয়ার আবেদনকে খারিজ করে দেয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আজকের আদালতের ভর্ৎসনা সেই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করল। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে।
কাঁকুড়গাছির এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই কড়া মনোভাব নতুন আশা জাগিয়েছে। ১৮ই জুলাইয়ের শুনানিতে এই মামলার ভবিষ্যত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই সকলের নজর।