বিজেপির ‘মুসলিম নীতি’ ঘিরে বিতর্ক, শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের পর তথাগত রায়ের বিস্ফোরক ব্যাখ্যা

বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রথম ভাষণেই মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে করা মন্তব্যের পর এবার বিতর্কের জন্ম দিলেন তাঁর পূর্বসূরী, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “বিজেপি মুসলিম বিরোধী নয়, বিজেপি মুসলমানদের হাত থেকে তলোয়ার কেড়ে নিয়ে কলম ধরাতে চায়।” এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তথাগত রায় সামাজিক মাধ্যমে যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তথাগত রায়ের বিস্ফোরক ব্যাখা:
শুক্রবার (৪ঠা জুলাই) তথাগত রায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “শমীক ভট্টাচার্য যথার্থই বলেছেন, বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে নামেনি। সংখ্যালঘু মানে এক্ষেত্রে ভারতীয় মুসলমান।” তবে এর পরেই তিনি যোগ করেন, “চোরাপথে ঢোকা বাংলাদেশি মুসলমানদের ভোটার তালিকা ও ভারতভূমি থেকে নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া যে বিজেপি চালিয়ে যাবে একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”
এই মন্তব্যের পর তথাগত রায় ভারতীয় মুসলমানদের ভোট প্রাপ্তি নিয়ে বিজেপির সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে হবে। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে মুসলমানদের ভোট যে বিজেপি কোনোদিনই পায়নি, পাবে না, একথা দিনের আলোর মত স্পষ্ট।” কেন এমন হবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি তৃণমূল ও অতীতে কংগ্রেস-সিপিএমের ‘নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব’-এর কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, “যে বিজেপি সর্বধর্মসমভাব প্রচার করে তাকে মুসলমানেরা কোন যুক্তিতে ভোট দেবে? শফিকুল ইসলাম, আলী হোসেন বা কাজী মাসুম আখতাররা নিয়ম নয়, ব্যতিক্রম।”
বাঙালি হিন্দুর অস্তিত্ব ও বিজেপির লক্ষ্য:
তথাগত রায় তাঁর পোস্টে বাঙালি হিন্দুদের অস্তিত্বের সংকট এবং বিজেপির লক্ষ্য নিয়ে আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে শুধু নয়, সারা পৃথিবীতে এক বিলুপ্তির পথে আগুয়ান জনগোষ্ঠীর নাম বাঙালি হিন্দু। যে জনগোষ্ঠী স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ বা নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মত মনীষীর জন্ম দিয়েছে সেই জনগোষ্ঠীকে বিলুপ্তি থেকে বাঁচাতে পারে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।”
এই প্রক্রিয়ায় মুসলমানদের কোনো স্বাৰ্থ নেই বলেই তিনি মনে করেন, এবং তাই তারা বিজেপিকে ভোট দেবে না বলে তাঁর দাবি।
‘তোয়াজের মানসিকতা’ ছাড়ার আহ্বান:
তথাগত রায় বিজেপির কিছু নেতার মানসিকতার সমালোচনা করে বলেছেন, “এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কিছু নেতার একটা hoping against hope গোছের মানসিকতা আছে- যদি আমরা একটা অন্য কোনো পন্থা নিই, অন্য কোনোভাবে মুসলমানদের তোয়াজ করি তাহলে তারা আমাদের ভোট দিলেও তো দিতে পারে!” এই ‘তোয়াজের মানসিকতা’ থেকে পার্টিকে যত তাড়াতাড়ি ছাড়াতে পারেন ততই মঙ্গল বলে তিনি নবনিযুক্ত সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে আহ্বান জানিয়েছেন।
তথাগত রায়ের এই মন্তব্যগুলি শমীক ভট্টাচার্যের ‘কলম ধরানো’র বার্তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য বিজেপির অন্দরে এবং বাইরে কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।