“ভারত-পাক সংঘাত ছিল….?”-চীনের ‘নোংরা খেলা’ ফাঁস করলেন ভারতের উপসেনাপ্রধান

ভারতের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন ভারতীয় সেনার উপসেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং। শুক্রবার দিল্লিতে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছেন, এই অভিযানে ভারতের প্রতিপক্ষ শুধু পাকিস্তান ছিল না, বরং ভারত আসলে তিনটি দেশের সম্মিলিত হুমকির মোকাবিলা করেছে। পাকিস্তান ছিল কেবল একটি ‘মুখোশ’, যার আড়ালে ছিল চিন। আর ইসলামাবাদকে সামরিক সহায়তা জুগিয়েছে তুরস্কও। প্রায় এক মাস আগে শেষ হওয়া এই অভিযানের গোপন দিকগুলো উন্মোচন করে তিনি জানালেন, কীভাবে নয়াদিল্লি পশ্চিম সীমান্তে এই ত্রিদেশীয় জোটের মোকাবিলা করেছিল।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিংয়ের বিস্ফোরক উক্তি:

উপসেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিং তাঁর ভাষণে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে ছিল একটি সীমান্ত, কিন্তু দুই প্রতিপক্ষ। পাকিস্তান সামনে ছিল। পিছন থেকে চিন সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করছিল। সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তুরস্কও।”

তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবির ভিত্তি কী? উপসেনাপ্রধান নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সংঘাত বিরতি নিয়ে আলোচনার সময়েই ইসলামাবাদ অনিচ্ছাকৃতভাবে এই গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “ডিজিএমও (ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস) স্তরের আলোচনা চলাকালীন পাকিস্তান বলেছিল, ‘আমরা জানি আপনারা গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল নিয়ে হামলা করার জন্য প্রস্তুত। আমরা আপনাদের এই হামলা প্রত্যাহার করার অনুরোধ করছি।’ স্পষ্টতই তারা চিনের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাচ্ছিল।”

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত কি চিনের ‘লাইভ ল্যাব’?

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিং আরও উল্লেখ করেছেন যে, চিনের এই সহায়তায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর পেছনে তাদের নিজস্ব স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। গত পাঁচ বছরে চিন পাকিস্তানকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। পাকিস্তানের আমদানি করা সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই চিনা উৎপাদিত। উপসেনাপ্রধানের মতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ছিল চিনের কাছে তাদের সরবরাহ করা অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার এক ‘লাইভ ল্যাবরেটরি’ বা জীবন্ত পরীক্ষাগার।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “নিজেরা মাঠে নামার পরিবর্তে, তারা (চিন) ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে।” এই মন্তব্য ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কেবল সীমান্ত সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং বিভিন্ন দেশের পরোক্ষ সহযোগিতা।

উপসেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ভারতের সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।