“ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে, বিভ্রান্ত হচ্ছে মানুষ”-সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধ বৃদ্ধি,শাহকে চিঠি লিখলেন মমতা

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন পোস্টের কারণে সমাজে হিংসা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ভুল পথে চালিত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে ক্রমাগত উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে শুধু ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে না, বরং তা সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে আঘাত হানছে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত তথ্যের কারণে অনেক খারাপ ঘটনা ঘটেছে। এই পোস্ট কেবল ভুল তথ্য ছড়ায় না, সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতেও আঘাত করে, উস্কানি দেয়। এমনকী সামাজিক সম্প্রীতি ব্যাহত করার এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের জেরে আর্থিক প্রতারণার ঘটনাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে জানান। বহু মানুষ সাইবার অপরাধীদের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি লেখেন, “সাইবার অপরাধের মধ্যে পড়ছে আর্থিক জালিয়াতি। পরিচয় চুরি থেকে শুরু করে অনলাইন হয়রানি এবং মানহানি পর্যন্ত, সাইবার অপরাধ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ের উপরই মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে সবথেকে বেশি সমস্য়ায় সাধারণ মানুষ। তারা সামাজিক ক্ষেত্রে দুর্দশার মুখে পড়ছে।”
কেন্দ্রের কাছে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি:
সাইবার অপরাধ কমাতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রোধে কেন্দ্র সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর চিঠিতে এই বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “উস্কানিমূলক পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। আইনি কাঠামো শক্ত করতে হবে। অনেক বেশি সচেতন করতে হবে পোস্ট করার আগে। অনলাইন তথ্য সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা এবং সন্দেহজনক পোস্টগুলোতে রিপোর্ট করতে হবে ইউজারদের।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই তিনি এই চিঠি লিখেছেন। গুজব এবং ভুয়ো তথ্য চিহ্নিত করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন এবং সন্দেহজনক সাইবার কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রিপোর্টিং পদ্ধতি আরও সহজ করার কথাও বলেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় স্তরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।