“বিসর্জন হবে তৃণমূলের, যুদ্ধ হবে” বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বে শমীক ভট্টাচার্য, দিলেন কড়া বার্তা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি পদে নিযুক্ত হলেন শমীক ভট্টাচার্য। আজ এক মঞ্চ থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এক যুদ্ধংদেহী বার্তা দিলেন। তাঁর ভাষণে উঠে এল “নতুন-পুরনো” ভেদাভেদ মুছে ফেলার আহ্বান এবং প্রয়োজনে তৃণমূলকে তাদের “ভাষা”তেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি।
নেতৃত্বে নতুন মুখ, নতুন রণনীতি?
দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গ বিজেপির পরিচিত মুখ শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি পদে নিয়ে আসায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে দল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একজোট হয়ে তৃণমূলের মোকাবিলা করতে চাইছে। সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই শমীক ভট্টাচার্য যে বার্তা দিলেন, তাতে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। তিনি বলেন, “নতুন-পুরনো বলে কিছু থাকবে না। যারা বিজেপিকে ভালোবাসে, যারা এই বাংলার পরিবর্তন চায়, তারা সবাই একজোট হয়ে লড়াই করবে।”
তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি: “পরিবর্তন নয়, বিসর্জন”
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তৃতার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “যে ভাষা তৃণমূল কংগ্রেস বোঝে, সেই ভাষাতেই জবাব হবে।” তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি ঘোষণা করেন, “এই বাংলায় পরিবর্তন নয়, বিসর্জন হবে। ২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন।” এই স্লোগান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি কতটা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এগোতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শমীক ভট্টাচার্যের এই “যুদ্ধ হবে” এবং “বিসর্জন হবে” মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপি স্পষ্ট করে দিল যে, তারা আর তৃণমূলের সঙ্গে নরম সুরে কথা বলতে রাজি নয়। বরং, তারা এবার সরাসরি সংঘাতে যেতে প্রস্তুত।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তা যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামী দিনগুলিতে বঙ্গ বিজেপির রণনীতি কেমন হয় এবং শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দল কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।