AI-বটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, ক্লাউডফ্লেয়ার আনছে নতুন নিয়ম, ডেটা নিতে লাগবে অনুমতি!

চ্যাটজিপিটির মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেমকে উন্নত করতে প্রচুর পরিমাণে প্রশিক্ষণ ডেটার প্রয়োজন হয়। এই ডেটা সংগ্রহের জন্য বেশিরভাগ এআই কোম্পানি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে বিশেষ ধরনের বট বা ক্রলার ব্যবহার করে। কিন্তু কপিরাইটযুক্ত তথ্য সংগ্রহের এই অনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ইন্টারনেট অবকাঠামোয় নিরাপত্তা সমাধান দেওয়া শীর্ষস্থানীয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার এই বিতর্কের একটি কার্যকর সমাধান নিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে।
ইন্টারনেটের নিয়মে ‘বড় পরিবর্তন’ আনছে ক্লাউডফ্লেয়ার
ক্লাউডফ্লেয়ারের নতুন ঘোষণা ইন্টারনেট যেভাবে কাজ করে, সেই প্রচলিত নিয়ম বা ধারায় ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুসারে, এখন থেকে ক্লাউডফ্লেয়ার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিভিন্ন এআই ক্রলারকে ব্লক করবে। এর ফলে, কোনো এআই কোম্পানি নিজের ইচ্ছামতো ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিতে পারবে না।
ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, তাদের সিস্টেম এসব এআই ক্রলারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করবে। এর অর্থ হলো, কোনো ওয়েবসাইটে ‘অনুমতি’ বা ‘পারিশ্রমিক’ ছাড়া এই বট বা এআই ক্রলারগুলো প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রকাশকদের হাতে ক্ষমতা: অনুমতি অথবা অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ
ওয়েবসাইটের প্রকাশক বা মালিকরা চাইলে এআই ক্রলারদের নিজেদের সাইটে ঢোকার অনুমতি দিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, ক্লাউডফ্লেয়ার এমন একটি সমাধানও এনেছে, যেখানে কোনো ওয়েবসাইট ক্রল করার জন্য বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে অর্থ দিতে বাধ্য করা যাবে। এটি প্রকাশকদের তাদের কন্টেন্টের ব্যবহারের জন্য ন্যায্য পাওনা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
এআই ডেটা সংগ্রহ: এক বড় বিতর্কের বিষয়
ইন্ডিপেনডেন্টের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে ইন্টারনেটে থাকা লেখা ব্যবহার করে বিভিন্ন এআই সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এখন একটি বড় বিতর্কের বিষয়। অনেক প্রকাশক ইতিমধ্যেই এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের লেখা এআই সিস্টেমকে শেখানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিরোধ বাড়তে থাকায়, ২০২৩ সালের দিকে ক্লাউডফ্লেয়ার প্রথমবার জানিয়েছিল যে ওয়েবসাইট মালিকরা তাদের সাইটে এক বিশেষ ধরনের ট্যাগ যোগ করতে পারবে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে জানাতে পারবে যে তাদের সাইটে যেন প্রবেশ না করা হয়। তবে এই নিয়ম কার্যকর করা এতদিন সম্ভব ছিল না।
এরপর গত বছর ক্লাউডফ্লেয়ার এমন এক প্রযুক্তি চালু করে, যার মাধ্যমে এসব এআই বট বা ক্রলারকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করা যায়। ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে এই স্বয়ংক্রিয় ব্লকিং টুলটি ক্লাউডফ্লেয়ারের সমস্ত ওয়েবসাইটে ডিফল্টরূপে বা নিজ থেকেই চালু থাকবে।
মানুষের সৃষ্টিশীলতা রক্ষার উদ্যোগ
ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স বলেছেন, “আমরা পুরো ক্লাউডফ্লেয়ার জুড়েই ইন্টারনেটের নিয়ম বদলে দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, যদি বিভিন্ন এআই কোম্পানি অবাধে ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য নিয়ে নেয়, তবে মানুষ নতুন লেখা বা অন্য ধরনের কনটেন্ট প্রকাশে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই নতুন পদক্ষেপের ফলে এআই ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি নতুন নৈতিক কাঠামো তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা কন্টেন্ট নির্মাতা এবং প্রকাশকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।