OMG! ৪ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত গোল সাহিলের, দেখেনিন ভাইরাল ভিডিও

যখন ভারতীয় ফুটবল একজন কার্যকরী স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে, ঠিক তখনই আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠছেন ১৯ বছর বয়সী সাহিল হরিজন। প্রতি মৌসুমেই ঘরোয়া লিগে তিনি তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছেন, আর শনিবার এরিয়ান ক্লাবের বিরুদ্ধে পাঠচক্রের ২-১ জয়ের মূল স্থপতি হয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা।

তাঁর সর্বশেষ গোলটি ছিল এক শিল্পকর্ম। বল পায়ে কিছুটা ভারসাম্য হারালেও দ্রুত নিজেকে সামলে নেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। এরপর যা ঘটল, তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখার মতো। একের পর এক এরিয়ান ডিফেন্ডারকে অনায়াসে কাটিয়ে পেনাল্টি বক্সের সামনে পৌঁছে যান সাহিল। সেখান থেকে দ্বিতীয় পোস্টের দিকে তাঁর মাপা শট টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়, গোলরক্ষকের কার্যত কিছুই করার ছিল না। এই গোলটি ছিল নিছকই একটি গোল নয়, বরং এক ফুটবলারের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং ক্ষিপ্রতার এক নিখুঁত মেলবন্ধন।

সাহিলের এই পারফরম্যান্স অবশ্য নতুন নয়। গত বছর কলকাতা লিগে সাদার্ন সমিতির বিরুদ্ধে তাঁর বাইসাইকেল কিকের গোলটি তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সেই ম্যাচে বিরতির আগে দল এক গোলে পিছিয়ে থাকলেও, সাহিলের অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকে সমতায় ফিরেছিল পাঠচক্র। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে শরীরকে শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে গোল করার সেই দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা।

শুধুই কলকাতা লিগ নয়, সাহিলের প্রতিভা আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনেও ঝলসে উঠেছে, যেখানে মহারাষ্ট্রের ক্লাব ওরাঞ্জে এফসি-র বিরুদ্ধে তাঁর হ্যাটট্রিক রয়েছে। মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের হয়েও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর, এমনকি ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে তার গোলের সংখ্যা ১১টি, যা একজন তরুণ স্ট্রাইকারের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

সাহিলের উত্থান আবারও প্রমাণ করে যে পাঠচক্র এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসের মতো ক্লাবগুলি ভারতীয় ফুটবলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাডেমি স্তরে খেলোয়াড় তুলে আনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক লিগ, কলকাতা লিগ এবং আই লিগের বিভিন্ন ডিভিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ দিয়ে এই ক্লাবগুলিই সাহিলদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে।

সাহিল হরিজন শুধু পাঠচক্রের নয়, বাংলার এবং ভারতীয় ফুটবলের নতুন স্বপ্ন। তাঁর অদম্য চেষ্টা, গোল করার ক্ষুধা এবং অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের একজন তারকা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এখন দেখার বিষয়, এই তরুণ তুর্কি ভারতীয় ফুটবলের আকাশে কতটা উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলতে পারেন।