রথের পুরীতে বড় দুর্ঘটনা, ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ৩ ভক্ত, আহত একাধিক

পবিত্র রথযাত্রা উৎসবে সেজে উঠেছিল পুরী। জগন্নাথদেবের রথ যখন গুন্ডিচা মন্দিরের দিকে ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে, তখন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে উৎসবের উন্মাদনা ছিল চরমে। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই সেই ভক্তির ঢেউয়ে মিশে গেল এক মর্মান্তিক বিষাদ। শনিবার ভোর ৪টে থেকে ৪:৩০-এর মধ্যে গুন্ডিচা মন্দিরের কাছে শারধাবালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন তিন পুণ্যার্থী। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় জগন্নাথধাম জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পিটিআই সূত্রে খবর, মৃতদের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন বালাগড়ের বাসন্তী সাহু, খুরদা জেলার বালিপাটনার প্রেমাকান্ত মোহান্তি এবং প্রভাতী দাস। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই উদ্ধারকার্য শুরু হয় এবং আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। রথযাত্রার মতো জনসমাগমপূর্ণ উৎসবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কেন এত বড় গাফিলতি হল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিআইপিদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না, যা বিশৃঙ্খলার কারণ হয়েছে। পুরীর এক বাসিন্দা, স্বাধীন কুমার পান্ডা এএনআই-কে জানান, “আমি গতকাল রাত ২-৩টা পর্যন্ত মন্দিরের কাছে ছিলাম, কিন্তু ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল না। ভিআইপিদের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করা হয়েছিল, এবং সাধারণ মানুষকে দূর থেকে বের হতে বলা হয়েছিল। মানুষ প্রবেশপথ থেকেই বের হতে শুরু করে…”

তদন্তের নির্দেশ, তবু বিতর্ক থামছে না

পুরীর জেলাশাসক সিদ্ধার্থ এস সোয়াইন স্বীকার করেছেন যে গুন্ডিচা মন্দিরের সামনে অতিরিক্ত ভক্ত সমাগমের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও পুরী জেলা সদর হাসপাতালের এসডিএমও অক্ষয় সতপথি আহতদের চিকিৎসার কথা বললেও, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, পুরীর অতিরিক্ত এসপি সুশীল মিশ্র জানিয়েছেন, ১১ জন আহত হলেও তাঁরা এখন প্রায় সুস্থ। তবে তাঁরা এখনও হতাহতের কোনো খবর পাননি বলে দাবি করেছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগমের মধ্যে এই দুর্ঘটনা রথযাত্রা উৎসবের আনন্দকে স্নান করিয়ে দিয়েছে। একদিকে রথ এগিয়ে চলেছে গুন্ডিচা মন্দিরের দিকে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ভক্তদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।