কসবার আইন কলেজে নৃশংসতা, শিক্ষাঙ্গনে গণধর্ষণ, ভিডিও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ভয়াবহ ঘটনার রেশ না কাটতেই মহানগরী সাক্ষী হলো আরও এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের। এবার দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ। কলেজেরই এক প্রথম বর্ষের ছাত্রী নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ‘গণধর্ষণের’ শিকার হয়েছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। শুধু ধর্ষণই নয়, অভিযোগপত্রে ছাত্রী দাবি করেছেন, ধর্ষণের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করারও চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত কলেজের প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা। এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে নারী নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিভীষিকাময় বিবরণ:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭:৩০ থেকে রাত ১০:৫০ মিনিটের মধ্যে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রথমে তাকে কলেজের ইউনিয়ন রুমে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। এরপর তাকে জোর করে গার্ডরুমে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও রাজনৈতিক যোগ:

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, যিনি কলেজের প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা এবং বর্তমানে আলিপুর আদালতে প্র্যাকটিস করা একজন আইনজীবী। জানা গেছে, সে কলেজে অস্থায়ী কর্মী হিসেবেও কাজ করত, যা তার ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালও মনোজিতকে গভর্নিং বডির সুপারিশে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। মনোজিত ছাড়াও ধৃত বাকি দুই অভিযুক্ত, জাইব আহমেদ (১৯) এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায় (২০), কলেজেরই বর্তমান পড়ুয়া এবং তারাও টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।

পুলিশি তৎপরতা ও জাতীয় মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপ:

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কসবা থানা তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। গত রাতেই মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতার প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে।

এই ঘটনায় গুরুত্ব বুঝে জাতীয় মহিলা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে কলকাতা পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে, যা এই মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন:

২৫ জুন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এত দীর্ঘ সময় ধরে কলেজের ভেতরে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করে, সেখানেই এমন ঘটনা ঘটলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার পর এবার ল’ কলেজে ‘গণধর্ষণ’! এই ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, শিক্ষাঙ্গনে নারী নিরাপত্তা আজও এক বড় চ্যালেঞ্জ। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সমাজের সর্বস্তরে।