মেছুয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, হোটেল মালিক-ম্যানেজারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, গাফিলতির জেরে প্রাণহানি!

২৯ এপ্রিল বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার চার্জশিট জমা দিল কলকাতা পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি এবং প্রায় ১৩ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে হোটেল মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে একজন অভিযুক্তকে ‘ফেরার’ দেখানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ও অভিযোগ:
পুলিশের চার্জশিটে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন— হোটেল মালিক আকাশ চাওলা, ম্যানেজার গৌরব কাপুর, এবং ইন্টেরিয়র ঠিকাদার খুরশিদ আলম ও সাগির আলি। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের পেছনে এদের গাফিলতিই প্রধান কারণ। চার্জশিটে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয় তলার ওই হোটেলের দোতলায় রান্নার জন্য ওভেন ও গ্যাস রাখা ছিল, যা একটি হোটেলে থাকার কথা নয় এবং এটি আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
ভয়াবহতার পুনর্পাঠ:
গত ২৯ এপ্রিল মেছুয়ার ফলপট্টির সেই হোটেলে আগুন লাগার পর পরই চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের ১০টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, ঘিঞ্জি এলাকা এবং আশপাশে প্রচুর দোকান ও বাড়ির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। প্রায় ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরের দিনও চলে উদ্ধারকাজ, যা থেকে ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। আগুন যখন লাগে, হোটেলের ৪২টি ঘরে তখন ৮৮ জন অবস্থান করছিলেন। দোতলায় লাগা আগুন দ্রুত অন্যান্য তলেও ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রাণহানির কারণ হয়।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ:
পুলিশের পক্ষ থেকে এই দ্রুত চার্জশিট দাখিল প্রমাণ করে যে, তারা এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, চার্জশিটে একজন অভিযুক্তকে ‘ফেরার’ দেখানোয় তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ পুলিশের সামনে থাকছে।
এই ঘটনা আবারও শহরের বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ১৪টি তাজা প্রাণ হারানোর ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে জনতা। চার্জশিট দাখিলের পর এবার বিচার প্রক্রিয়ার দিকেই সকলের নজর।