‘এক্কেবারে…,যেমন মিষ্টি রঙ, তেমনই কিউট!’ কাঠের রথ তৈরি করে বাংলার ঘরে ঘরে ভক্তি ছড়াচ্ছে রানাঘাটের এক পরিবার

আর মাত্র দু’দিন পরেই রথযাত্রা। পুরী থেকে শুরু করে বাংলার প্রতিটি কোণায় এখন চলছে এই পবিত্র উৎসবের প্রস্তুতি। মায়াপুর, মাহেশ, কলকাতা এবং এই বছর দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির—সবখানেই উৎসবের চূড়ান্ত উন্মাদনা। কিন্তু এই বিশাল আয়োজনের আড়ালে, বাংলার ঘরে ঘরে যে ছোট ছোট রথগুলো শোভা পায়, তার নেপথ্যে থাকে কিছু অসাধারণ গল্প। এমনই এক গল্প নদিয়ার রানাঘাটের একটি পরিবারের, যারা প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাঠের রথ তৈরি করে বাংলার ভক্তি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

এক অনন্য পেশা:
রানাঘাটের এই পরিবারটি বছরের পর বছর ধরে শুধুমাত্র রথযাত্রার মরসুমে কাঠের ছোট ও মাঝারি আকারের রথ তৈরি করে আসছে। তাদের তৈরি করা রথগুলো শুধু রানাঘাট বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কলকাতা, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর এমনকি শিলিগুড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। রথযাত্রা শেষ হলে তারা আবার অন্য পেশায় ফিরে যান। এটি তাদের জন্য শুধু একটি জীবিকা নয়, বরং একটি ঐতিহ্য ও ভালোবাসার শিল্প।

দামের তারতম্য:
এই পরিবারটি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে রথ তৈরি করে। ছোট থেকে মাঝারি আকারের এই রথগুলো বিভিন্ন রঙে সুন্দর কারুকার্য করা হয়, যাতে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীর মূর্তি সহজেই এর মধ্যে বসানো যায়। এই রথগুলো পাড়ার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের থেকে শুরু করে স্থানীয় মাঝারি মন্দিরেও ব্যবহৃত হয়।

হাতে তৈরি শিল্পের কদর:
অতীতে, ছোট রথগুলো বেশিরভাগই স্থানীয় শিল্পীরা হাতে তৈরি করতেন। যদিও এখন দোকানেও বিভিন্ন ধরনের রথ কিনতে পাওয়া যায়, তবুও হাতে তৈরি কাঠের রথের একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। রানাঘাটের এই পরিবারের তৈরি রথগুলি সেই প্রাচীন শিল্প ও ঐতিহ্যেরই ধারক ও বাহক। এই ধরনের উদ্যোগ বাংলার হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের এই শিল্পকলা ভক্তি এবং ভালোবাসার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে, যা রথযাত্রার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।