জুলাইয়ে কি মিলবে সুসংবাদ? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে প্রকাশ্যে এল নয়া তথ্য

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছে, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছে, যেখানে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে সাধারণ জাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা করে পান।

সম্প্রতি, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভাতা বৃদ্ধির জল্পনা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই ভাতা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সাধারণ জাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৮০০ টাকা করে পাবেন। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই ভাতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে, এবং অনেকেই আশা করছেন যে জুলাই মাস থেকেই এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে।

তবে, এই মুহূর্তে ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত খবর মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্বে এই ভাতাকে ‘মহিলাদের সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, এই ভাতা ‘উত্তরোত্তর বাড়বে’। তার এই মন্তব্যই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

এই ভাতা বৃদ্ধির জল্পনার মাঝেই মমতা সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে একটি বিশেষ ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষে শিশু ও নারী কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর মাস পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নথিভুক্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৭৫ জন। এই প্রকল্পের জন্য এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৪৮৯.৭২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সাথে তিনি এও জানান যে, রাজ্যের ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন।

যদিও মন্ত্রী শশী পাঁজার এই ঘোষণায় প্রকল্পের ব্যাপকতা এবং ব্যয়ের পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু বহুল প্রত্যাশিত ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আসেনি। বারবার এই ভাতা বৃদ্ধির দাবি উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অধীর আগ্রহে জুলাই মাসের দিকে তাকিয়ে আছেন, এই আশায় যে সরকার তাদের আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ বৃদ্ধি করবে।