অমানবিকতার চরম দৃষ্টান্ত, ছত্তিশগড়ে উল্টে গেল মুরগিবাহী ভ্যান, রক্তাক্ত চালককে ফেলে মুরগি লুট!

মনুষ্যত্বের শেষ সীমা যেন আরও একবার প্রশ্নবিদ্ধ হলো ছত্তিশগড়ের বেমেতারা জেলায়। শুক্রবার রায়পুর-বিলাসপুর জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান উল্টে যায়। চালক গুরুতর আহত হয়ে গাড়ির ভিতরেই ছটফট করছিলেন, যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন তিনি। কিন্তু আশপাশের গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে না এসে, উল্টে যাওয়া ভ্যান থেকে মুরগি লুটে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
বিবেকহীন লুঠতরাজ: সাহায্যের বদলে স্ব-স্বার্থ
ঘড়ির কাঁটায় শুক্রবারের সকাল। রায়পুর-বিলাসপুর রোডের নন্দঘাট থানার অন্তর্গত তেমরি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। মুরগিতে বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার অভিঘাতে চালক গুরুতর আঘাত পান এবং ভ্যানের ভেতরেই আটকা পড়ে যান। তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, যন্ত্রণায় তিনি কাতরাচ্ছিলেন।
কিন্তু চারপাশে জড়ো হওয়া মানুষের দল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বদলে এক চরম নির্লজ্জতার পরিচয় দেয়। আহত চালককে অবহেলা করে তারা হুড়োহুড়ি করে ভ্যানের উপর উঠে পড়ে এবং নির্বিচারে মুরগি লুটে নিতে শুরু করে। একজন পথচারী পুরো দৃশ্যটি তাঁর মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। সেই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কীভাবে মানুষজন আহত চালককে উপেক্ষা করে গাড়িতে উঠে মুরগি ধরে পালাচ্ছেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেশজুড়ে ক্ষোভ: “এটাই কি আমাদের সমাজ?”
এই ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, “এটাই কি আমাদের মানবিক সমাজ?” এমন ঘটনা সমাজে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে মুরগি লুটেরাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আহত চালককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। নন্দঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক আহত ব্যক্তির যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে গণ-লুটতরাজের এই ঘটনা ভারতীয় সমাজের এক অন্ধকার দিককে উন্মোচন করল, যা বিবেকবান মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।