স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনে হাইকোর্টের অনুমতি, কড়া শর্তে জেরা ‘কালীঘাটের কাকু’কে

বহুচর্চিত ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অবশেষে শর্তসাপেক্ষে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের অনুমতি পেলেন কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ২৬ জুন নিজের বাড়িতেই এই অনুষ্ঠান করতে পারবেন সুজয়কৃষ্ণ। তবে, এই অনুমতি এসেছে একাধিক কঠোর শর্ত সাপেক্ষে, যা তাঁর সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবহের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।
কড়া নজরদারিতে অনুষ্ঠান, কারা থাকতে পারবে?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ৩৫ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। এই ৩৫ জন অতিথির আধার কার্ড ও বিস্তারিত পরিচয়পত্র অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টা আগেই সিবিআই-এর কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া, অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। অতিথিরা যখন বাড়িতে প্রবেশ করবেন, তখন সিআরপিএফ কর্মীরা তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই করবেন। সিবিআইয়ের কড়া নজরদারি এবং সিআরপিএফ-এর উপস্থিতিতেই এই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি, মামলার গতিবিধি
এর পাশাপাশি, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের চিকিৎসার কারণে প্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে, তাঁর মূল জামিন মামলার শুনানি ২৩ জুলাই ফের অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, এর আগে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে সপ্তাহে একবার করে বেহালা থানায় হাজিরা দেওয়ার যে নির্দেশ ছিল, হাইকোর্ট এদিন তা প্রত্যাহার করেছে।
কালীঘাটের কাকুর আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তত আরও ১০ জনকে আমন্ত্রণ করার অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি জানান যে, আমন্ত্রিতদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই সিবিআইকে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর মক্কেল বাড়িতেই এই অনুষ্ঠানটি করতে চান। তিনি আরও আবেদন করেন, সিআরপিএফ আধিকারিকদের বাড়ির বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হোক।
সিবিআইয়ের আপত্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী এই আবেদনের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “উনি চিকিৎসার কারণে জামিনে আছেন। এই জামিনের কিছু শর্ত আছে। আসলে মূল জামিন মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল এটা। ধীরে ধীরে দেখা করার মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। উনি ১০ জনের কথা বলছেন, কীভাবে আমরা তাঁদের চিহ্নিত করব? এই ১০ জনের মধ্যে কেউ যে সাক্ষী নেই বা এদের দ্বারা নথি নষ্ট হবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়? আবেদনকারী যথেষ্ট প্রভাবশালী।”
সিবিআইয়ের আপত্তির জবাবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, “এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রতিদিন করা হয় না। যাঁরা আমন্ত্রণ পেয়ে আসবেন, তাঁদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখুন।” সিবিআই পাল্টা জানায়, মূল জামিনের মামলা বারবার বিলম্ব করা হচ্ছে, যা দ্রুত শুনানির প্রয়োজন। মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে জামিন পাওয়ার পর সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র তিনটি ভিন্ন আবেদন করেছেন বলেও সিবিআই উল্লেখ করে।
এই নির্দেশিকার মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট একদিকে যেমন মানবিক দিকটি বিবেচনা করেছে, তেমনই মামলার সংবেদনশীলতা ও অভিযুক্তের প্রভাবশালিত্বের দিকটিও মাথায় রেখেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।