যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের ফাঁদে দেগঙ্গার ১১ প্রাণ, সাহায্যের আর্তি নিয়ে পরিবারের কাতর আবেদন!

যুদ্ধাঞ্চলে আটকে পড়া পরিজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় এখন দিন গুনছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার পাঁচটি পরিবার। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের বিভীষিকাময় পরিবেশে আটকা পড়েছেন এই পাঁচ পরিবারের মোট এগারোজন সদস্য। শেষবার ফোন করে তারা জানিয়েছিলেন বোমাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব, সাইরেনের তীক্ষ্ণ শব্দ এবং খাদ্যের অভাবে কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা পরিজনদের উৎকণ্ঠাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, এই এগারোজন ব্যক্তি কর্মসূত্রে ইরানে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মাছ ধরার কাজ বা অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইরানে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে ভয়ংকর রূপ নেয়, তখন তারা বুঝতে পারেননি যে এই সংঘাত তাদের জীবনকে এমন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।
শেষ ফোনের আর্তনাদ: বোমার শব্দ আর খাবারের অভাব
পরিবার সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে শেষবার ইরানে আটকে পড়া প্রিয়জনেরা ফোন করেছিলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর ছিল আতঙ্কিত, হতাশাগ্রস্ত। তারা জানিয়েছিলেন, চারিদিকে অবিরাম বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ, আকাশ ভেদ করে সাইরেনের তীব্র চিৎকার – এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল খাবারের অভাবের কথা। পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রীর অভাবে তাদের জীবনধারণই কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই কলের পর থেকেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ, সমস্ত রকম যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দেগঙ্গার এই পাঁচ পরিবারের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানরা প্রতিনিয়ত দুঃশ্চিন্তায় কাটছে, প্রিয়জনরা কেমন আছেন, বেঁচে আছেন কিনা, তার কোনো খবর নেই।
নবান্ন থেকে দিল্লি: সাহায্যের আর্তি নিয়ে পরিবারের কাতর আবেদন
এই পরিস্থিতিতে, অসহায় পরিবারগুলি এখন কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের একটাই আর্তি – যত দ্রুত সম্ভব তাদের প্রিয়জনদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হোক। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিবারগুলি ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাদের স্বজনদের জীবন রক্ষা করবে এবং তাদের নিরাপদে ঘরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।
একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে প্রিয়জনদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ – দেগঙ্গার এই গ্রামগুলিতে এখন কেবলই হাহাকার আর নিরন্তর প্রার্থনা। ইরান থেকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এগারোটি পরিবার, যাদের চোখ এখন শুধু দিল্লি আর কলকাতার দিকে।