বইপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান! অবশেষে ঘোষণা হল বইমেলার দিনক্ষণ, কবে থেকে শুরু হবে বুক ফেয়ার?

বইপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষণা করা হলো ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার চূড়ান্ত দিনক্ষণ। আগামী ২০২৬ সালের ২২শে জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই মহাবইমেলার আসর চলবে ৩রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বরাবরের মতো আগামী বছরও সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গণেই বসবে এই বর্ণাঢ্য উৎসব। একই সাথে, আগামী বইমেলার ‘থিম কান্ট্রি’ (Theme Country) হিসেবে লাতিন আমেরিকার কোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড, যা নতুন সংস্কৃতির এক দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে।
বুধবার পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের তরফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়। তবে এবার থিম কান্ট্রি নির্বাচনে গিল্ড এক ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় এ বিষয়ে জানান, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেখান থেকে একটি দেশ চূড়ান্ত হবে, যারা এবারই প্রথমবার কলকাতা বইমেলায় থিম কান্ট্রি হিসেবে অংশ নেবে। এই চূড়ান্ত নামটি শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গণ কলকাতা বইমেলার স্থায়ী ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এই নতুন ঠিকানায় বইমেলা রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থী টানছে। চলতি বছর ৪৮তম বইমেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড।
২০২৬ সালের মেলা ২২শে জানুয়ারি উদ্বোধন হবে। এর ঠিক পরেই পড়ছে ২৩শে জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন এবং ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটি। ছুটির এই দিনগুলোতে সরকারি এবং একাধিক বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকায় বইমেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই ছুটিগুলি এবং সপ্তাহান্তকে ঘিরে আগামী বছরের বইমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রসঙ্গত, বইমেলাকে ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য সরকার অতিরিক্ত এবং বিশেষ বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করে থাকে, যাতে বইপ্রেমীরা সহজেই মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছে যেতে পারেন।
লাতিন আমেরিকার কোনো দেশের থিম কান্ট্রি হওয়া মানে সংস্কৃতির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন। বইপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নতুন থিম কান্ট্রির নাম জানার জন্য এবং আগামী বছরের বইমেলার বর্ণাঢ্য আয়োজনের জন্য, যা নিঃসন্দেহে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে।