মায়ের সামনে আগুনে পুড়ে চিরঘুমে ১৫ বছরের আকাশ, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক পরিণতি

মা ও সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই অটুট বন্ধনের এক মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি ঘটল আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায়, যেখানে এক মা নিজের চোখের সামনেই তাঁর আদরের ১৫ বছর বয়সী সন্তানকে জীবন্ত পুড়ে যেতে দেখলেন। মা সীতাবেন, যিনি ৯ মাস ধরে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে তিলে তিলে বড় করে তুলেছিলেন, আজ তিনি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে অসহায় মায়েদের একজন। ১৫ বছরের আকাশ পাতনী আর নেই, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা তাকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে তার মায়ের কোল থেকে।
নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস
আকাশ সেই অভিশপ্ত বিমানটিতে ছিল না, এমনকি যে বিল্ডিংয়ে বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেই বিজে মেডিকেল কলেজের কম্পাউন্ডেও সে ছিল না। আকাশের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল, সে তার মায়ের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিল। সীতাবেন আইপি কম্পাউন্ডে একটি চায়ের দোকান চালান। ঘটনার দিন মা যখন খাবার খাচ্ছিলেন, আকাশ তখন তার দোকানের কাছে একটি গাছের নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সে আর কখনও জেগে উঠবে না। যে মা প্রতিদিন আদর করে তাকে জাগাতেন, সেই মা সেদিন আগুনের লেলিহান শিখার সামনে দাঁড়িয়ে এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে রইলেন, আর তার সন্তান চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল।
ভাইরাল ভিডিও ও মায়ের আকুতি
এই দুর্ঘটনার একটি নতুন ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত ব্যক্তি বিশ্বাস কুমার আগুনের গোলার ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। একই ভিডিওতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, আকাশের মা সীতাবেন তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে চিৎকার করছেন। দুর্ঘটনার যে ভিডিওটি জনসমক্ষে এসেছে, তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সীতা তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য উন্মত্তের মতো আগুনের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। নিজের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে সীতাবেন নিজেও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, আকাশ যে খাটে ঘুমিয়ে ছিল, বিমানের একটি অংশ ঠিক তার ওপরই এসে পড়ে এবং খাটসহ আকাশ আগুনে ঝলসে যায়।
আকাশের ডিএনএ রিপোর্টও হাতে এসেছে, এবং মঙ্গলবার তার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং এর মানবিক ট্র্যাজেডিকে নতুন করে সামনে এনেছে। এক নিষ্পাপ জীবনের এই অকাল পরিসমাপ্তি সবাইকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে।