প্রবল বর্ষণে ভিজবে গোটা বাংলা, নিম্নচাপের জেরে একাধিক জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা

তীব্র দাবদাহের পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা নিয়ে দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করেছে বর্ষা। মঙ্গলবার থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে প্রতীক্ষিত বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ উভয় স্থানেই অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে, যা আষাঢ়ের শুরুতেই বাংলাকে পুরোপুরি ভিজিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিম বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর যে নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়েছিল, সেটি এখন একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আজ সকালে এটি পানাগড় ও বাঁকুড়ার উপর অবস্থান করছিল। এই নিম্নচাপের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঘূর্ণাবর্তও যুক্ত রয়েছে, যা বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে আছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে।

সাত দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত জানান, এই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, কোথাও ভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।

১৮, ১৯ ও ২০ জুন (আজ থেকে শুক্রবার): এই তিন দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
২১ থেকে ২৩ জুন: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় কমবেশি বৃষ্টি হবে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও সব জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২৪ জুন: রাজ্যের সব জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কোন জেলায় কেমন বৃষ্টি?

আগামী কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বর্ষণ হবে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও সব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

এই লাগাতার বৃষ্টি রাজ্যের তাপমাত্রাকে অনেকটাই কমিয়ে দেবে এবং দাবদাহে হাঁসফাঁস করা জনজীবনকে স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, অতিভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জল জমার বা নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।