মহেশতলায় শুভেন্দুর পা রাখতেই ‘চোর’ স্লোগান, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললো রাষ্ট্রপতি

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে মহেশতলায় প্রবেশ করতেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’, ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। এমনকি মাইক ব্যবহার করে এই ধ্বনি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি। শুভেন্দু দাবি করেছেন, তৃণমূল তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হবে না, এবং এই ‘হিংসার বিচার’ হবে।

আদালত শুভেন্দুকে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করার শর্তে মহেশতলায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। সেই শর্ত মেনেই তিনি কনভয়ে চেপে মহেশতলায় পৌঁছন। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই এক অভাবনীয় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শুভেন্দুকে দেখেই সমবেত কণ্ঠে ‘চোর, চোর, চোরটা, শিশিবরবাবুর ছেলেটা’ স্লোগান শোনা যায়, যা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই মাইক ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের কারণ ও ‘গিরগিটি’ ট্যাবলো

শুভেন্দুকে ঘিরে এই বিক্ষোভ কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে এক বিক্ষোভকারী বলেন, “চোর, শিশিরবাবুর ছেলে এক নম্বরের চোর। মেদিনীপুরে অশান্তি করে, লাইট বন্ধ করে ভোটে জিতেছে। ওকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনেছে, ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনেননি। মেদিনীপুরে কিছু করতে পারেনি, মহেশতলায় কী করবে।” শুধু স্লোগান নয়, শুভেন্দুর কনভয়ের পথে বেশ কিছু ট্যাবলোও দেখা যায়, যেগুলিতে লেখা ছিল, ‘আমি হলাম গিরগিটি’।

শুভেন্দুর হুঙ্কার ও রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি

এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এটা ১৬৩ ধারা? ১৬৩ ধারা কি বিজেপি-র জন্য, নাকি বিরোধীদের জন্য, নাকি হিন্দুদের জন্য? অসভ্যতামির চূড়ান্ত। অন্য লোক হলে ঘুরে পালিয়ে যেত। ঘরে পালানোর সিন নেই। সবার সঙ্গে দেখা করেছি, আহতদের বাড়িতে গিয়েছি। জোর করে অনেক দোকান বন্ধ করেছে। এখানকার মানুষকে বলে যাব, আপনারা ইনসাফ, বিচার পাবেন। আপনাদের বিচার দিতে, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলনেতা যা করার করবে, আইনের মধ্যে থেকে করব।”

মহেশতলায় দাঁড়িয়ে আবারও রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তোলেন শুভেন্দু। তিনি রাজীব কুমার (পুলিশ কমিশনার) ও ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভাইপোর নির্দেশে যা করলে, তাতে সরাসরি কোর্টকে চ্যালেঞ্জ করলেন। আমি পুরো ভিডিও করতে করতে এসেছি নেটার পার্ক থেকে। হাইকোর্টে ভিডিও জমা দেব। এই জন্যই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চাইছেন। আমিও বলি, রাষ্ট্রপতি শাসনে নির্বাচন না হলে, এই এলাকার মানুষকে লোকসভার নির্বাচনেও ভোট দিতে দেওয়া হয়নি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিতে দেওয়া হবে না।”

এক সপ্তাহ আগে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল মহেশতলা। সেই সময়ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আজও যেভাবে শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়, মাইকে স্লোগান দেওয়া হয় এবং রাস্তায় ট্যাবলো নামানো হয়, তাতে আবারও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। এই ঘটনাগুলি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে।