ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহেই গুপ্তধন পেল ভারত! হাজার হাজার কোটির সম্পত্তি মিলবে কবে?

ভারত এতদিন তেলের জন্য প্রধানত ইরান, ইসরায়েল, রাশিয়া এবং আরব আমিরাতের মতো দেশগুলির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এবার সেই নির্ভরতা কমার এক বিশাল সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, আন্দামান সাগরে ক্রুড তেলের এক বিশাল ভাণ্ডারের খোঁজ পাওয়া গেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহের মধ্যেই ভারতের জন্য এই ‘জ্যাকপট’ খবরটি এল। মন্ত্রী পুরী জানিয়েছেন, হেস কর্পোরেশন (Hess Corporation) এবং গুয়ানার সিএনওওসি (CNOOC) নামক সংস্থা দুটি এই তেলের ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে।
বর্তমানে ভারতে আসাম, গুজরাট, রাজস্থান, মুম্বাই এবং কৃষ্ণা-গোদাবরী অঞ্চলে তেলের খনির খোঁজ মিলেছে। এছাড়াও বিশাখাপত্তনম, মাঙ্গালোর ও পাদুরেও তেলের রিজার্ভ রয়েছে। সম্প্রতি ওড়িশা ও রাজস্থানেও তেলের ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এবার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও ওএনজিসি (ONGC) এবং অয়েল ইন্ডিয়া (Oil India) তেল অনুসন্ধানের কাজ চালাচ্ছে। ইতিমধ্য়েই সেখানে সমীক্ষা ও ড্রিলিং চলছে।
যদি গুয়ানার মতো আন্দামানেও তেলের খনির বিশাল খোঁজ পাওয়া যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দ্য নিউ ইন্ডিয়ানের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আন্দামানে তেলের খনির খোঁজ মিললে দেশের অর্থনীতি ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২০০২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে তেমন কোনো কাজ হয়নি। তারপর আমরা নীতিতে পরিবর্তন আনি।”
ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্রুড তেলই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। ক্রুড তেলের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। যদি আন্দামানে তেল উত্তোলন শুরু হয়, তবে ভারতকে আর অন্য কোনও দেশের উপর এতটা নির্ভরশীল থাকতে হবে না, যা দেশের অর্থনীতি এবং কৌশলগত নিরাপত্তায় বিশাল প্রভাব ফেলবে।
হরদীপ সিং পুরী জানান, ২০২৪ অর্থবর্ষে ওএনজিসি মোট ৫৪১টি কুয়ো খনন করেছে, যা বিগত ৩৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, ৩৫ লক্ষ স্কোয়ার কিলোমিটার পলিভূমির মধ্যে ১০ লক্ষ স্কোয়ার কিলোমিটারই তেল অনুসন্ধানের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি ভারতের জ্বালানি সুরক্ষাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।