সোনা, রুপো বা জমি জমা নয়, আগামীতে দামি হয়ে উঠবে এই জিনিসটাই! শুনে চমকেছেন বিশেষজ্ঞরাও

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্রোকারেজ সংস্থা জিরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথ সম্প্রতি এক্সে (পূর্বে ট্যুইটার) একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন, যা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদেরও অবাক করেছে। তিনি বলেছেন, আগামী দিনে সোনা, রুপো বা জমির মতো ঐতিহ্যবাহী সম্পদগুলো তাদের মূল্য হারাবে। পরিবর্তে, শক্তি (এনার্জি) এবং ইলেকট্রনই হবে লেনদেনের প্রধান মাধ্যম।
নিখিল কামাথের এই মন্তব্যের মূলে রয়েছে ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ খরচ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে পৃথিবীতে যত ডেটা সেন্টার রয়েছে, সেগুলো চালাতে বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তা দিয়ে ৪ লক্ষ ইলেকট্রিক গাড়ি চালানো সম্ভব। তথ্য অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারের মোট খরচের ৬৫ শতাংশই হল বিদ্যুতের খরচ। ডেটা সেন্টারগুলো মূলত ডিজিটাল স্টোরের মতো কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন তথ্য জমা থাকে এবং ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ডিজিটাল সার্ভিসের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে আমেরিকায়, যার সংখ্যা ৩,৬৮০টি। জার্মানি ৪২৪টি ডেটা সেন্টার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। এই তালিকায় ভারত সপ্তম স্থানে রয়েছে, যেখানে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা ২,৬২৬টি। স্বাভাবিকভাবেই, কোনো ডেটা সেন্টারে যত বেশি সার্ভার থাকে, সেখানে বিদ্যুতের প্রয়োজন তত বেশি হয়। কিছুদিন আগেই ওপেনএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান বলেছিলেন যে, শুধুমাত্র একটি ‘থ্যাঙ্কইউ’ লিখতে চ্যাটজিপিটি মিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ খরচ করে।
— Nikhil Kamath (@nikhilkamathcio) June 5, 2025
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলো বিশ্বব্যাপী মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ খরচ করবে। আর এখানেই নিখিল কামাথের ভবিষ্যদ্বাণী আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা যত বাড়বে, ততই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হবে, যা অনেকটা আজকের টাকার মতোই হবে। তাঁর মতে, যদি সবকিছুতেই বিদ্যুৎ এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পৃথিবীতে একটাই মুদ্রা চলবে, আর তা হলো ‘এনার্জি কারেন্সি’।
নিখিল কামাথের এই দূরদর্শী মন্তব্য বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তি ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরেছে। এটি কি ভবিষ্যতের মুদ্রার মানচিত্র বদলে দেবে? সময় তা বলবে।