Google-কি স্কেল AI -য়ের সঙ্গ ছাড়ছে? মেটার বিনিয়োগে আতঙ্কে প্রযুক্তি জায়ান্টরা!

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রাণশক্তি ডেটা লেবেলিং ইন্ডাস্ট্রিতেও লেগেছে বড় ধাক্কা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই (Scale AI) এখন তার সবচেয়ে বড় গ্রাহক গুগলকে হারানোর মুখে। প্রতিদ্বন্দ্বী মেটা (Meta) স্কেল এআইয়ের ৪৯ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণের খবর প্রকাশের পর গুগল এই সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
মেটার বিনিয়োগ: গুগলের জেমিনাই মডেলের ডেটা নিয়ে উদ্বেগ
জানা গেছে, ২০২৫ সালে গুগল স্কেল এআইকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পরিশোধ করার পরিকল্পনা করেছিল। এই অর্থের বিনিময়ে স্কেল এআই গুগলের চ্যাটজিপিটি প্রতিদ্বন্দ্বী ‘জেমিনাই’ এআই মডেলসহ নানা প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘হিউম্যান লেবেলড’ প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহ করত। কিন্তু মেটার বিশাল বিনিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুগল এরইমধ্যে স্কেল এআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মেটার এই ৪৯ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণের ফলে স্কেল এআইয়ের বাজার মূল্য ১৪০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্কেল এআই থেকে মুখ ফেরাচ্ছে ল্যাবগুলো: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
স্কেল এআইয়ের আয়ের প্রধান উৎস হলো বিশ্বের বড় বড় জেনারেটিভ এআই ল্যাবগুলো। এই ল্যাবগুলো ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা লেবেল করা জটিল ডেটাসেট স্কেল এআইয়ের কাছ থেকে কিনে থাকে, যার প্রতিটি কাজের মূল্য ১০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে এখন এই ল্যাবগুলো স্কেল এআই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মাইক্রোসফট, ইলন মাস্কের এক্সএআই (xAI) এবং এমনকি ওপেনএআই (OpenAI)-ও তাদের স্কেল এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন বা সীমিত করেছে। যদিও ওপেনএআইয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্কেল এআই তাদের অনেক ডেটা ভেন্ডরের (ডেটা সরবরাহকারী) একটি হিসেবে থাকছে।
এই প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর আশঙ্কা হলো, স্কেল এআইয়ের সঙ্গে কাজ করলে তাদের গবেষণা রোডম্যাপ, প্রোটোটাইপ এবং গোপনীয় তথ্য মেটার কাছে পৌঁছে যেতে পারে। কারণ এখন মেটা স্কেল এআইয়ের একটি বড় অংশের মালিক।
স্কেল এআইয়ের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সুযোগ
স্কেল এআই অবশ্য তাদের গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে এবং তাদের ব্যবসা এখনও শক্তিশালী রয়েছে বলে দাবি করেছে।
তবে এই পরিস্থিতি স্কেল এআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। স্কেল প্রতিদ্বন্দ্বী লেবেলবক্সের (Labelbox) প্রধান নির্বাহী মনু শর্মা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, “আমাদের আশা, এই বছরেই শত শত কোটি ডলারের নতুন আয় আসবে স্কেল থেকে আসা গ্রাহকদের মাধ্যমে।” মেরকর (Merkor) নামক একটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ব্রেন্ডান ফুডি মনে করছেন, এই পরিবর্তন ল্যাবগুলোকে নিজস্ব ডেটা লেবেলার নিয়োগ দেওয়ার দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করবে, যা তাদের তথ্যকে আরও নিরাপদ রাখবে।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কেল এআই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদেরও ডেটা লেবেলিং সেবা দিয়ে থাকে। তবে তাদের আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে এআই ল্যাবগুলোর কাছ থেকেই।
এই বিনিয়োগের ফলে স্কেল এআইয়ের সিইও আলেকজান্ডার ওয়াং মেটায় এআই প্রধানের পদে যোগ দিতে যাচ্ছেন, যা এআই ইন্ডাস্ট্রিতে মেটার প্রভাব আরও বাড়াবে। এই পুরো ঘটনা এআই ডেটা সরবরাহের বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।