কেদারনাথের কাছে জঙ্গলে ভেঙে পড়ল হেলিকপ্টার, পাইলট সহ ৭ আরোহীর মৃত্যু

আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাখণ্ডে আরও একটি বিমান দুর্ঘটনার খবর সামনে এল। কেদারনাথ ধাম থেকে গুপ্তকাশীর উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া আর্য এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার গৌরীকুণ্ডের ঘন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাইলট সহ ৭ আরোহীর, যার মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী শিশুও ছিল, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, আজ ভোর ৫:১৭ মিনিটে আর্য এভিয়েশনের এই কপ্টারটি কেদারনাথ হেলিপ্যাড থেকে ৬ জন পূর্ণার্থী এবং পাইলটকে নিয়ে গুপ্তকাশীর দিকে রওনা হয়েছিল। তথ্য অনুসারে, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণেই হেলিকপ্টারটি পথ হারিয়ে গৌরীকুণ্ডের জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মৃত আরোহীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে: পাইলট রাজবীর, এবং যাত্রী বিক্রম রাওয়াত, বিনোদ, তৃষ্টি সিং, রাজকুমার, শ্রদ্ধা, এবং ১০ বছর বয়সী রাশি।
উত্তরাখণ্ডের এডিজি আইন ও শৃঙ্খলা ডঃ ভি. মুরুগেশান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিখোঁজ হেলিকপ্টারটি গৌরীকুণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, “রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। এসডিআরএফ, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আমি সকল যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য বাবা কেদারের কাছে প্রার্থনা করছি।”
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বারবার দুর্ঘটনা
চারধাম যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এটি কেদারনাথ অঞ্চলে পঞ্চম হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা। সম্প্রতি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যা নিয়ে ডিজিসিএ তদন্ত শুরু করে। এর আগেও কেদারনাথ হেলিপ্যাডের কাছে একটি হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ ঘটেছিল, যেখানে দুই এইমস চিকিৎসক এবং পাইলট অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন।
বারবার এই ধরনের ঘটনা তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসন এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় হেলিকপ্টার পরিষেবা পরিচালনার নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়েও নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেদারনাথ যাত্রায় হেলিকপ্টার পরিষেবার সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা মজবুত, তা নিয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।