পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসেই ঢুকছে লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা! দাবি তৃণমূলের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে নদিয়া জেলায়। অভিযোগ উঠেছে, তেহট্ট এক ব্লকের কানাইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাম-কংগ্রেস পরিচালিত প্রধান টগরী ঘোষের স্বামী নীলোৎপল ঘোষ নাকি বিগত প্রায় ৪০ মাস ধরে নিয়মিতভাবে এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা এই ঘটনায় প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।

জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার একটি প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান টগরী ঘোষ। তবে সেই সভা শুরুর আগেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ভিড় করতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান টগরী ঘোষের স্বামী নীলোৎপল ঘোষ গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, সরকারি সুবিধাভোগীদের তালিকায় নীলোৎপল ঘোষের নাম জ্বলজ্বল করছে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এর আগেও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অবৈধভাবে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। এই প্রসঙ্গে তেহট্ট এক ব্লকের বিডিও থানায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিলেন। তবে জামিন নিয়ে টগরী ঘোষ ফের কাজ শুরু করেন।

তৃণমূলের প্রশ্ন, যে ব্যক্তির নাম আগেই দুর্নীতি মামলায় জড়িয়েছে, তিনি কীভাবে ফের প্রশাসনিক কাজ করছেন? তাদের আরও অভিযোগ, একজন পঞ্চায়েত প্রধান, যার বিরুদ্ধে আগেই সরকারি টাকা কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল, তিনি এবার নিজের স্বামীকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন, অথচ এলাকায় উন্নয়ন আটকে আছে।

কানাইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান টগরী ঘোষ অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বদনাম করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আইনি পথেই এর মোকাবিলা করবেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল সূত্রে খবর, এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল। বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকা করে ভাতা পান। এই প্রকল্পটি বাংলার মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে, এই নতুন অভিযোগ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, এবং পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের ভবিষ্যৎ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।