“কাউকে বাঁচানোর সুযোগই ছিল না”- বিমান দুর্ঘটনায় অমিত শাহের কণ্ঠে শোক ও দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

আহমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি জানালেন, বিমানের ট্যাঙ্কে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি থাকায় বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুর্ঘটনার পর কাউকে বাঁচানোর কোনো সুযোগই ছিল না। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারত সরকার এবং গুজরাট সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, “বিমানে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল। আর এতটা উত্তাপ ছিল যে কাউকে বাঁচানোর সুযোগই ছিল না। আমি ঘটনাস্থলেও গিয়েছিলাম।” তাঁর এই মন্তব্য দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং হতাহতের কারণ সম্পর্কে এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 ফ্লাইটটি টেক অফের মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল, সেই তীব্রতার কারণেই বেশিরভাগ যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, “দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে আমি মুখ্যমন্ত্রী ও এই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। প্রধানমন্ত্রীজিরও ফোন আসে।” এই দ্রুত যোগাযোগ এবং উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনার ফলে উদ্ধারকাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা সম্ভব হয়। তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত সরকার ও গুজরাত সরকারের সব বিভাগ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজ করেছে।”
এই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার এবং আহত একমাত্র জীবিত ব্যক্তিকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকালই নিশ্চিত করেছিলেন যে, সকল মৃতদেহ বের করার কাজ শেষ হয়েছে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে মৃতদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
যদিও উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান শেষ হয়েছে, তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখনও বিমানের ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান চলছে। এই ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার হলেই বিমানের শেষ মুহূর্তের সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে, যা তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আহমেদাবাদের এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।