ব্ল্যাকবক্সটি গেল কোথায়? এখনও পর্যন্ত কী পরিস্থিতি? জেনেনিন বিমান দুর্ঘটনার সর্বশেষ আপডেট

আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর শোকস্তব্ধ দেশ। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বিমান ভেঙে পড়া বিধ্বস্ত এলাকা থেকে শুরু করে হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান তিনি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন। এরপর সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মেঘনানি হোস্টেল সংলগ্ন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে তিনি বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ, ঝলসানো বিল্ডিং, পুড়ে যাওয়া গাছ এবং বাতাসে পোড়া মানুষ ও যন্ত্রাংশের গন্ধ, সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হন। এই ভয়াবহতার মধ্যেও এখনও পর্যন্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্সটি খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সিভিল হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি গুজরাতের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানীর স্ত্রী অঞ্জলি রূপানীর সঙ্গেও দেখা করেন।

গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই-১৭১ (Boeing 787-8, VT-ANB) টেক অফের মাত্র ৪০ সেকেন্ড পরেই ভেঙে পড়ে। এয়ারলাইনটি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রী এবং ক্রুর মধ্যে কেবল একজন বেঁচে আছেন – যা এক অলৌকিক ঘটনা। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল সন্ধেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কাউকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে, সকল মৃতদেহ বের করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া করে মৃতদেহগুলি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দুর্ঘটনাস্থলে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তবে ব্ল্যাকবক্সের সন্ধান এখনও চলছে। দেশের মানুষ এই ভয়াবহ ঘটনায় শোকাহত এবং একমাত্র জীবিত ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।