ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা ইজরায়েলের, ‘আমাদের কোনো হাত নেই’-জানাল আমেরিকা

সকালে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত। শুক্রবার সকালে আচমকাই ইরানে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার দায় স্বীকার করে ঘোষণা করেছেন, ইরানের পারমাণবিক এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই নিশানা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই হামলা আবশ্যক ছিল’।

নেতানিয়াহু শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বায়ুসেনা ইরানে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশেষভাবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের হৃদয়ে আঘাত করেছি।”

এদিকে, ইসরায়েলি হামলার জেরে ইরানের রাজধানী তেহরান শহরে এদিন সকাল থেকেই শোনা গেছে একের পর এক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের প্রধান হোসেন সালাম নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেহরানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে কোনোভাবেই তাদের সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

নেতানিয়াহু তাঁর বার্তায় আরও বলেছেন, “ইসরায়েলের ইতিহাসে আমরা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি।”

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইসরায়েল ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন খোলাখুলি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এই সংঘাতের পরবর্তী পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমগ্র বিশ্বের নজর এখন তেহরান ও জেরুজালেমের দিকে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।