‘রাখে হরি, মারে কে’! অভিশপ্ত বিমানে জীবিত মাত্র ১, জেনেনিন কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন যুবক?

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যখন ২৪১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকে মুহ্যমান, তখনই এক অবিশ্বাস্য কাহিনি জন্ম দিল নতুন আশার। প্রবাদ বলে, ‘রাখে হরি, মারে কে!’ এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন একজন যাত্রী – রমেশ বিশ্বাসকুমার। তার এই ফিরে আসাকে মিরাকল বললেও কম বলা হবে।
দুর্ঘটনার সময় অভিশপ্ত বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানে ১১এ নম্বর আসনে বসেছিলেন রমেশ। চারপাশে কেবল মৃতদেহ আর দগ্ধ ধ্বংসাবশেষের স্তূপ। উদ্ধারকারীরা যখন প্রাণের সন্ধানে মরিয়া তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্যভাবে নিজেই উঠে এলেন রমেশ। হেঁটে গেলেন স্ট্রেচারের দিকে। যদিও এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কারণে তার শরীরে একাধিক আঘাত লেগেছে, কিন্তু প্রাণে বেঁচে যাওয়াটাই যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
আজ তক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ রমেশ তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তিনি বলেন, “আচমকা প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেছিলাম। হঠাৎ চোখ খুলতেই দেখলাম, চতুর্দিকে আগুন লেগে গিয়েছে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটছিল যে বুঝে উঠতেই পারিনি। সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। জ্ঞান ফিরতেই দেখি, আমার আশেপাশে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটতে শুরু করি। তারপর দেখলাম কেউ একজন আমায় সাহায্য করল অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতে।”
তার এই বিবরণ শুনে শিউরে উঠছেন সকলে। কী করে তিনি এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যে অক্ষত রইলেন, তা যেন কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না।
রমেশ বিশ্বাসকুমারের বোর্ডিং পাসটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। ১১এ আসনের ওই যাত্রীর প্রাণে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বলছেন সকলেই। এই মুহূর্তে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও, তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে গোটা দেশ। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রমেশের সুস্থতা এবং তার কাছ থেকে দুর্ঘটনার আরও বিশদ বিবরণ জানার জন্য অপেক্ষা করছে তদন্তকারীরাও। তার এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন সত্যিই ‘হরি’র অপার মহিমার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।