‘আমাকে বাঁচান’-পর্নকাণ্ডে শ্বেতা খানকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ, উঠল মারধরের অভিযোগ

হাওড়ার পর্নকাণ্ডে অভিযুক্ত শ্বেতা খানকে আজ আদালতে তোলার সময় তৃণমূল মহিলা কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো। প্রিজন ভ্যানে তোলার মুহূর্তে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, শ্বেতা খানের সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো যোগ নেই, অথচ এই ঘটনা তৃণমূলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। বর্তমানে শ্বেতা খানকে হাওড়া কোর্ট লকআপে রাখা হয়েছে।

আজ যখন পুলিশ শ্বেতা খানকে হাওড়া আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্যের অবতারণা হয়। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী আচমকাই প্রিজন ভ্যানের দিকে তেড়ে আসেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল চরম ক্ষোভ। শ্বেতা খানকে ভ্যানে তোলার ঠিক আগে, উত্তেজিত কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এই ঘটনা আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

বিক্ষোভকারী তৃণমূল মহিলা কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, শ্বেতা খান দলের কোনও পদে নেই বা দলের সদস্যও নন। তা সত্ত্বেও এই পর্নকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাঁরা বারবার দাবি করেন, “শ্বেতা খানের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। উনি দলের বদনাম করেছেন!” তাঁদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে কতটা অসন্তোষ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি হাওড়ায় একটি পর্ন র‍্যাকেটের পর্দা ফাঁস হয়, যেখানে শ্বেতা খানের নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে আজ আদালত চত্বরে তৃণমূল কর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ঘটনাটিকে এক নতুন মাত্রা দিল। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই পর্নকাণ্ডের প্রভাব শুধু অপরাধ জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা রাজনৈতিক মহলেও গভীর ছাপ ফেলছে।

শ্বেতা খানকে আপাতত হাওড়া কোর্ট লকআপে রাখা হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।