বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পাবে ১ কোটি, আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল টাটা গোষ্ঠী

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গেল গুজরাত। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 বিমানটি আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভেঙে পড়ে। এই দুর্ভাগ্যজনক ফ্লাইটে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিসহ মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন — যার মধ্যে ১০ জন ক্রু সদস্য, ২ জন পাইলট এবং ২৩০ জন যাত্রী। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই মর্মান্তিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে টাটা গ্রুপ। টাটা সন্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই মুহূর্তে আমাদের যে শোক, তা কোনও ভাষাতেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা সেইসব পরিবারের সঙ্গে রয়েছে, যারা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন তাঁদের সঙ্গে।”

তিনি আরও বলেন, “টাটা গ্রুপ এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো প্রতিটি ব্যক্তির পরিবারকে ১ কোটি টাকা দেবে। আমরা আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করব এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সকল যত্ন এবং সহায়তা নিশ্চিত করব। উপরন্তু, আমরা বিজে মেডিকেলের হস্টেল নির্মাণে সাহায্য করব। এই অকল্পনীয় সময়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়ভাবে অটল।”

বিমানের ভ্রমণ আজ যতটা সুবিধাজনক, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি মাত্র ভুলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, বিমান সংস্থা এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু কঠোর নিয়ম তৈরি করেছে। এই নিয়মগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমানের জন্য এই নিয়মগুলি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিমানে মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক আঘাতের ক্ষেত্রে, ভারতে পরিচালিত বিমান সংস্থাগুলি ১৯৯৯ সালের মন্ট্রিল কনভেনশন-এর নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যেখানে ভারতও স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশনের অধীনে, প্রতিটি যাত্রীর জন্য প্রায় ১.৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এই দুর্ঘটনা সরাসরি বিমান সংস্থার ত্রুটির কারণে ঘটেছে, তাহলে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। যদিও এই ক্ষতিপূরণ মূলত আন্তর্জাতিক বিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, DGCA-এর নির্দেশিকা অনুসারে, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও একই রকম কভারেজ দিতে পারে। এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সাধারণত বিমান সংস্থা এবং তাদের বিমা কোম্পানি দ্বারা পরিশোধ করা হয়।

অনেক বিমা কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে যাত্রীদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ ভ্রমণ বিমা কভারেজ অফার করে। এর মধ্যে সাধারণত ২৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বিমা এবং ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্থায়ী অক্ষমতা ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে, যদি কোনও যাত্রী ব্যক্তিগত ভ্রমণ বিমা নিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিবারও এই অতিরিক্ত কভারেজের সুবিধা পাবে, যা এই কঠিন সময়ে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আকাশপথে ভ্রমণ যতটা উন্নত হয়েছে, ততটাই জরুরি হল প্রতিটি যাত্রীর জীবন এবং সুরক্ষার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা।

Editor001
  • Editor001