DA নিয়ে নতুন মোড়! ২৫% বকেয়া মেটাবে না সরকার? বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ মেটানোর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার নতুন কৌশল নিল রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতের রুলিংয়ের কিছু বিষয় নিয়ে ব্যাখা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে নবান্ন, একইসাথে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একটি নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ দফতর বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও দফতরের কাছে কর্মচারীদের সংখ্যা জানতে চেয়েছিল। এরই মাঝে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের কিছু বিষয় স্পষ্টীকরণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজও শুরু করে দিয়েছে রাজ্য।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-র অংশ মেটাতে রাজ্য সরকার একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় সরকারি কর্মীদের নিজস্ব পোর্টাল ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিনানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (Integrated Financial Management System)-এ নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে হবে। কর্মচারীদের ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিজেদের কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য এই পোর্টালে দিতে হবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীরা তথ্য দিলে অর্থ দফতর সহজেই নির্ধারণ করতে পারবে, কোন সরকারি কর্মীর কতটা বকেয়া ডিএ প্রাপ্য। এতে ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে।

গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৬ সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। একইসাথে, ৪ সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ কতটা এগিয়েছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সরকারি কর্মীরা এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থায় নিজেদের তথ্য দিলে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কাজ সরকারের জন্য অনেকটাই সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলাটি গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে। এই মামলাটি পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত এবং ২০১৬ সাল থেকে এর আইনি লড়াই চলছে। এটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (SAT), কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। প্রথমে স্যাট রাজ্য সরকারের পক্ষে রায় দিলেও, এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা জয় পেয়েছেন।

২০২২ সালে যখন ডিএ মামলা প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে, তখন বিচারপতি ছিলেন জাস্টিস দীনেশ মাহেশ্বরী এবং জাস্টিস ঋষিকেশ রায়। এরপর মামলাটি জাস্টিস ঋষিকেশ রায় এবং জাস্টিস দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে জাস্টিস দীনেশ মাহেশ্বরী এবং জাস্টিস সঞ্জয় কুমারের এজলাসে এটি আবার ওঠে, এবং ২৮ এপ্রিল, ২০২৩ সালে শেষবারের মতো শুনানি হয় এই এজলাসে। এরপর জাস্টিস দীনেশ মাহেশ্বরী অবসর নেন। পরবর্তীকালে, এই মামলার বিচারপতি পদে থাকা জাস্টিস ঋষিকেশ রায়ও ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসর নিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছে ব্যাখ্যার আবেদন ডিএ মামলার ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।