“কুম্ভ মেলায় প্রায় ৫০-৬০ জন মারা গিয়েছিলেন”- পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী!

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দলের আইপিএল ট্রফি জয়ের পর বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে প্রবল ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, যখন স্টেডিয়ামের বাইরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছিল, তখনও স্টেডিয়ামের ভিতরে আরসিবি দল ও কর্নাটক সরকার বিজয় উল্লাসে মত্ত ছিল। এই ঘটনা নিয়েই চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে কংগ্রেস সরকার।

ঘটনার সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি পদপিষ্টের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “এই ধরনের একাধিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি, এর থেকেও ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি সেগুলি ব্যবহার করে সাফাই দিচ্ছি না… হয়ে গিয়েছে… কুম্ভ মেলাতেও হয়েছিল। কুম্ভ মেলায় প্রায় ৫০-৬০ জন মারা গিয়েছিলেন।”

এখানে উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৬০ জন আহত হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সেই উদাহরণই টেনে আনেন। তাঁর এই মন্তব্য তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বহু মানুষ তাঁর সংবেদনশীলতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সরকারের উপর দায় আসতেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন যে, রাজ্য সরকার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি। তিনি দাবি করেন, স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রাজ্য সরকার কেবল অনুমতি দিয়েছিল এবং সহায়তার জন্য গোটা বেঙ্গালুরু পুলিশকে মোতায়েন করেছিল।

সিদ্দারামাইয়া উল্টে জনতাকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “বিধান সৌধের কাছে ১ লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল, ভাগ্য ভালো সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তবে স্টেডিয়ামে মাত্র ৩৫ হাজার বসার জায়গা, সেখানে ২-৩ লাখ মানুষ হয়েছিল। এটা কল্পনার বাইরে ছিল সম্পূর্ণ।”

১৮ বছরে প্রথমবারের মতো আইপিএল ট্রফি জেতায় বিরাট কোহলি, রজত পাতিদারের টিম আরসিবিকে নিয়ে কর্নাটক সরকারের উন্মাদনার শেষ ছিল না। তাই স্টেডিয়ামের ভিতরে তারা হুল্লোড়, উৎসব-আনন্দে মেতে ছিলেন। কিন্তু যখন বাইরে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটছিল, তখনও বিজয় উৎসব থামেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা আয়োজকদের অব্যবস্থা এবং জনতা নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরেছে।