“ওনার সঙ্গে আমার আদালতে দেখা হবে”, শুভেন্দুকে কোর্টে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন কাজল

অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ বিতর্কে বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল থামছেই না। বারবার পুলিশ ডেকেও সাড়া মেলেনি, এরই মধ্যে একসময়ের বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডল এখন সম্পূর্ণ বেড রেস্টে। এই পরিস্থিতিতে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ জানিয়েছেন, সময় পেলেই তিনি অসুস্থ অনুব্রতকে দেখতে যাবেন। কিন্তু এই কাজল শেখের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যা নিয়েও কম চর্চা হয়নি। এবার সেই শুভেন্দু অধিকারীকে কোর্টে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাজল শেখ। তাঁর সাফ কথা, “জবাব ওনাকে দিতেই হবে।”

অডিয়ো বিতর্কের নেপথ্যে কী?
সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বিজেপির হাত ধরে একটি অডিয়ো ক্লিপ বাইরে আসে, যেখানে শুধু ওই পুলিশ কর্মী নন, তাঁর পরিবারের লোকজনকেও কদর্য আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শোরগোল শুরু হতেই তৃণমূল দল অনুব্রতকে ক্ষমা চাইতে বলে এবং তিনি ক্ষমাও চান। যদিও অনুব্রত অনুগামীদের একাংশের মতে, এর পিছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) হাত এবং তাদের ‘কেষ্টদা’ কিছুই করেননি।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই অডিয়ো ভাইরালের পিছনে রয়েছে কাজলের হাত। যদিও কাজল শেখ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বারবারই দাবি করে এসেছেন যে, নানা কথা শোনা গেলেও তাঁর সঙ্গে অনুব্রতর কোনো ‘বিরোধ’ নেই। তাঁর সাফ কথা, “আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারবেন আমার সঙ্গে কেষ্টদার তুতু ম্যা ম্যা হয়েছে? হয়নি।”

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ উঠতেই কার্যত তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন কাজল শেখ। বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বিরোধী দলনেতা ১০০টার মধ্যে ৯৯টা মিথ্যা কথা বলেন। যাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিল তিল করে নিজের হাতে গড়েছেন। তিনি আজ সেই মায়ের উদ্দেশ্যেই উল্টো-পাল্টা কথা বলেন।”

এখানেই না থেমে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দুই সংবাদমাধ্যমে এসব বলেছেন। বীরভূম জেলার সভাধিপতি কাজল শেখের নাম নিয়েছেন। ওনার সঙ্গে আমার আদালতে দেখা হবে। ওনাকে আদালতে এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আদালত পর্যন্ত ওনাকে আমি টেনে আনব।”

কাজল শেখের এই হুঁশিয়ারি বঙ্গ রাজনীতির উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক মহল।