নিজের জন্য মদ কিনে এনেছিলেন, সেই মদ খেয়ে নিল ছেলে, পিটিয়ে খুন করল বাবা

নিজের কেনা মদ ছেলে খেয়ে ফেলায় বাবাকে পিটিয়ে খুন করার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে। নিহত ব্যক্তির নাম দিলীপ ধ্রুবে (৩৫)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা হিরামন ধ্রুবেকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরামন ধ্রুবে কিছু মদ কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন পরে খাবেন বলে। কিন্তু তিনি যখন মদ খেতে যান, দেখেন বোতল খালি। বুঝতে পারেন, তাঁর ছেলে দিলীপ সেই মদ সাবাড় করে দিয়েছে। এতেই হিরামন প্রচণ্ড রেগে যান। প্রথমে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা মুহূর্তেই তীব্র ঝগড়ায় পরিণত হয়। রাগের বশে হিরামন একটি চ্যালা কাঠ দিয়ে দিলীপের মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন দিলীপ এবং তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দিলীপের নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় মর্গে পাঠানো হয়। এরপর নিহত দিলীপের স্ত্রী রাজকুমারী দেবী তাঁর শ্বশুর হিরামন ধ্রুবের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে খুনের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ অভিযুক্ত হিরামনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, মৃত দিলীপের ৩ এবং ৫ বছর বয়সী দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। বাবার এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং দাদুর গ্রেফতারির পর এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিলীপ তেমন কোনো কাজ করতেন না। মাঝে মধ্যে কাজ করলেও সেই উপার্জনের বেশিরভাগই মদের পেছনে খরচ করে দিতেন। এ নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। সংসারের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন বাবা হিরামন। তিনি চাইতেন দিলীপ কাজ করুক, কিন্তু ছেলে তাঁর কথায় কান দিত না। এর ফলে বাবা-ছেলের মধ্যে নিত্যদিন ঝামেলা হতো, এমনকি দিলীপ তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করতেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মদ্যপান করে বাবা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, যা মাঝে মাঝে গুরুতর রূপ নিত। এই ধরনের ঘটনা তাঁদের কাছে গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল। তাই ওই দিনের ঝামেলাতেও তাঁরা খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এই অশান্তির পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হবে, তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।