সুন্দরবনে ফের ‘হলুদ আতঙ্ক’! প্রকৃতির ডাকে সারা না দিয়েই পালালেন বাসিন্দা

সুন্দরবনের শান্ত গ্রামগুলিতে ফের ত্রাস! এবার মৈপীঠের নগেনাবাদ বোসের ঘেরি পাইকপাড়ায় দেখা মিলল ‘রায়বাঘিনী’-র। স্থানীয় এক ব্যক্তি ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রকৃতির ডাকে বেরিয়েছিলেন, আর জঙ্গলের কাছাকাছি যেতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! সাক্ষাৎ ‘বাংলার বাঘ’-এর দর্শন!

মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা খবর দেন বন দফতরে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মীরা। নলগোড়া বিটের কর্মীরা এবং কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, আজমলমারি ১২ নম্বর জঙ্গল থেকে মাকরি নদী পেরিয়েই বাঘটি লোকালয়ের কাছাকাছি জঙ্গলে এসেছে।

এই অপ্রত্যাশিত খবরে গোটা গ্রাম জুঁড়ে আতঙ্ক আর চাঞ্চল্য। শীতকালে নদীর জল কম থাকায় বাঘের লোকালয়ে ঢুকে খাবারের খোঁজে আসাটা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, গরমের শুরুতে এমন ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন বন দফতরও। তবে গত মরশুমের তুলনায় এই মরশুমে লোকালয়ে বাঘ ঢোকার প্রবণতা যেন একটু বেশিই।

বনকর্মীরা ইতিমধ্যেই এলাকায় খতিয়ে দেখছেন, বাঘটি জঙ্গলে ফিরে গেছে নাকি এখনও আশেপাশে লুকিয়ে রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার গরমকালেও বাঘ লোকালয়ে আসছে? বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি খাবারের অভাব—এই নিয়ে জল্পনা চলছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সুন্দরবনের এই ‘হলুদ আতঙ্ক’ গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বন দফতর নজরদারি চালালেও, মনে চাপা ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন মৈপীঠের মানুষ। প্রকৃতির এই রুদ্র রূপ কবে শান্ত হবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদের বাসিন্দারা।