IPL-এ আজ নতুন রাজার অভিষেক, কোহলি বনাম শ্রেয়াস—কে করবে উৎসব, কে কাঁদবে মহাশোকে?

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ পর্দা নামছে আইপিএলের অষ্টাদশ আসরের। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে পাঞ্জাব কিংস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। আইপিএলের উদ্বোধনী আসর থেকে অংশ নিলেও এই দুই দলের কেউই আজ পর্যন্ত সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। ফলে আজ রাতে নিশ্চিতভাবেই আইপিএলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

‘পবিত্র ত্রয়ী’ ভাঙছে: ইতিহাস গড়ার হাতছানি
আইপিএলের ১৭টি আসর শেষ হলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি দল শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে ডেকান চার্জার্স (২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন) এখন অস্তিত্বহীন, আর গুজরাট টাইটান্স ও লখনউ সুপার জায়ান্টস ছিল পরের সংযোজন। তবে আরসিবি এবং পাঞ্জাব কিংস, যারা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই খেলছে, বারবার ফাইনালে উঠেও (আরসিবি চারবার, পাঞ্জাব একবার) স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।

আরেকটি ‘ট্রফি-বিহীন’ পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো দিল্লি ক্যাপিটালস। সামাজিক মাধ্যমে এই তিন দলকে ঠাট্টা করে কেউ কেউ ‘আইপিএলের পবিত্র ত্রয়ী’ বলে থাকেন। এই নামে কৌতুক থাকলেও, সময়ের সঙ্গে তাদের মাঝে একধরনের নরম আত্মীয়তার অনুভব এসেছে, যেখানে ভক্তরাও মজা করে নিজেদের এই নাম ব্যবহার করে একে অপরের যন্ত্রণার ভ্রাতৃত্ববোধে জড়িয়ে ধরে।

কিন্তু আজ রাতের ফাইনাল সেই ‘ত্রয়ী’ ভেঙে দেবে। যেহেতু ফাইনালে বেঙ্গালুরু ও পাঞ্জাব— দু’দলই খেলছে, তাই আইপিএলে নিশ্চিতভাবেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সিংহাসনে বসবে আইপিএলের নতুন রাজা। রাজ্য জয়ের পর রাজা যেভাবে ‘গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন’ বা মহোৎসব করেন, তেমনই এক দৃশ্য আজ চিত্রায়িত হবে আহমেদাবাদে।

উৎসব বনাম মহাশোক: ফাইনালের দুই পিঠ
তবে উৎসব তো করবে কেবল বিজয়ী দল। দু’দলের তো আর একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে যে দল হারবে, তাদের ভাগ্যে কী আছে?

পরাজিত দলের জন্য অপেক্ষা করছে ‘মহাশোক’। বহুল কাঙ্ক্ষিত ট্রফির একেবারে কাছাকাছি এসেও তা হারিয়ে ফেলার শোকে তারা মূহ্যমান হয়ে যাবে।

কোহলির নিয়তি: ১৮তম মৌসুমে ১৮ নম্বর জার্সির ট্রফি?
আইপিএলের শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলছেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় দলের এই সুপারস্টার এখনও আইপিএল শিরোপা জিততে পারেননি— এটি মেনে নেওয়াও কষ্টের। ক্যারিয়ারের শেষবেলায় তার সামনে আরও একটি সুযোগ এসেছে। এবার কি ভাগ্য কোহলির সহায় হবে? নিয়তি কি সত্যিই ঠিক করেছে, পিঠে ১৮ নম্বর জার্সি পরা মানুষটিকে ১৮তম মৌসুমে এসে একটি ট্রফি দেবে?

কোহলির ভাগ্যে কী লেখা আছে, সেটি জানা যাবে রাতে। রাত ৮টায় খেলা শুরু হওয়ার পর একে একে ইঙ্গিত আসতে থাকবে।

কিন্তু কোহলিরা হেরে গেলে? সেটি হবে বেঙ্গালুরু ভক্তদের জন্য চতুর্থ ফাইনালে চতুর্থ পরাজয়, নতুন আশার পথের সমাপ্তি। যে দলে ব্যাট-বল, টপঅর্ডারের ঝলক আর মিডলঅর্ডারের গভীরতার মাঝে এক অনবদ্য ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, শেষটা আবার সেই পুরনো পরিণতিতে গিয়ে ঠেকবে। সবচেয়ে বড় কথা, এটা হবে কোহলির জন্য আরও এক তিক্ত পরাজয়। যিনি এবারও অবিশ্বাস্য মৌসুম কাটিয়েছেন, ৫০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেছেন রেকর্ড অষ্টমবারের মতো। তার জন্য এক ব্যতিক্রমী ১২ মাসের চূড়ান্ত অধ্যায়, যেখানে একদিকে রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে রয়েছে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার মিশ্র অনুভূতি।

পাঞ্জাবের স্বপ্নভঙ্গ নাকি ইতিহাস রচনা?
অন্যদিকে, পাঞ্জাব হেরে গেলে সেটি হবে প্রতিশ্রুতির ভেঙে পড়া। এমন এক হৃদয়বিদারক গল্প তৈরি হবে, যা দুর্দান্ত কোনো ক্রীড়াভিত্তিক সিনেমার চিত্রনাট্য হতে পারতো। পাঞ্জাব কোচ নিজের পথ ছেড়ে এমন এক অধিনায়ককে দলে এনেছিলেন, যার প্রমাণ করার মতো কিছু ছিল। যে অধিনায়ক গত মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, সেই শ্রেয়াস আইয়ার এবার পাঞ্জাবের অধিনায়ক হয়ে এসেছেন। কোচ-অধিনায়ক জুটি মিলে পাঞ্জাবে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে অজানা, অভিজ্ঞতাহীন দেশি খেলোয়াড়রাই পরিণত হয়েছিল দলের মহাতার্কায়। যার কারণে এমন এক দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা জেগেছে, যে দলটা ইতিহাসে শুধু ব্যর্থতারই সাক্ষী হয়ে এসেছিল এতদিন।

শেষ পর্যন্ত দেখা যাক, আজ রাতে ভাগ্য কোন দলের সহায় হয়, আর কারা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে আরও বহুদিন কাটায়।