“এই গ্রেপ্তারি দুর্ভাগ্যজনক”-শর্মিষ্ঠার গ্রেপ্তারিতে পুলিশকে তোপ বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানের

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতার আনন্দপুরের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা পানোলির পাশে দাঁড়িয়েছেন বার কাউন্সিলের অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং রাজ্যসভার সাংসদ মননকুমার মিশ্র। তিনি এই গ্রেপ্তারকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ পবন কল্যাণ এবং কঙ্গনা রনৌতও শর্মিষ্ঠার সমর্থনে মুখ খুলেছিলেন।
শর্মিষ্ঠার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে এবং গার্ডেনরিচ থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরই কলকাতা পুলিশ হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে শর্মিষ্ঠাকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার এক বিবৃতিতে মননকুমার মিশ্র লিখেছেন, “সব রকম ভাবে শর্মিষ্ঠার পাশে আছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করে দিয়েছিলেন, এমনকি ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তার জন্য গ্রেপ্তার এবং জেল হেফাজত ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নির্লজ্জ আক্রমণ।”
তিনি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছেন। মননের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সব অপরাধ উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তাদের বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম হিংসা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক মুর্শিদাবাদ হিংসায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও মনন প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই হয় রাজ্য জড়িত ছিল, নয়তো নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল। তিনি অবিলম্বে শর্মিষ্ঠার মুক্তি দাবি করেছেন।
শুধু দেশের ভিতরেই নয়, বিদেশ থেকেও শর্মিষ্ঠা সমর্থন পেয়েছেন। ডাচ রাজনীতিবিদ গ্রিট ওয়াইল্ডার্স তাকে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “সাহসী শর্মিষ্ঠা পানোলিকে মুক্তি দিন! তাকে গ্রেপ্তার করা বাক স্বাধীনতার জন্য লজ্জাজনক। পাকিস্তান এবং মহম্মদ সম্পর্কে সত্য বলার জন্য তাকে শাস্তি দেবেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওঁকে সাহায্য করুন।”
এই ঘটনা দেশের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।