ইতিহাস মুছে তৈরি হবে বহুতল! শান্তিনিকেতনে ভাঙা হচ্ছে অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি, মুখে কুলুপ পৌরসভার

পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা যেন হাওয়ায় মেশানো দীর্ঘশ্বাস! শান্তিনিকেতনের বুকে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিমাখা ‘আবাস’ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ ফের শুরু হয়েছে। রবিবার সকালের আলো ফুটতেই দেখা গেল সেই ধ্বংসলীলার ছবি। অভিযোগ, আর্ট অর্ডারের আড়ালে বুলডোজার নেমেছে, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে একটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। এই ঘটনায় শান্তিনিকেতনের আকাশ বাতাস যেন থমথমে।
প্রথমবার যখন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল, বোলপুর পৌরসভা রুখে দাঁড়িয়েছিল। মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সেই ধ্বংসযজ্ঞ। সেই তালা আজও অক্ষত, কিন্তু মানুষের লোভের কাছে যেন তা নিতান্তই দুর্বল প্রহরী। পৌরসভার সেই নিষেধের তোয়াক্কা না করেই, ফের শুরু হয়েছে ‘আবাস’ ধূলিসাৎ করার কাজ। আর আশ্চর্যজনকভাবে, এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বোলপুর পৌরসভা।
কেন এই স্মৃতিমেদুর বাড়িকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে? জানা যাচ্ছে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের স্থানে মাথা তুলবে এক বহুতল। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফুঁসছেন শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক থেকে সাধারণ মানুষ। তাদের প্রশ্ন, জাতীয় স্তরের এক শিল্পীর স্মৃতি রক্ষায় যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে শান্তিনিকেতনের ভবিষ্যৎ কী? অনেকের মনেই উঁকি দিচ্ছে গভীর শঙ্কা – কবিগুরুর শান্তিনিকেতনও কি তবে এবার মুনাফালোভী ঠিকাদারদের গ্রাসে?
এই ‘আবাস’ শুধু কিছু ইটের গাঁথনি নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়া শান্তিনিকেতনের দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ। ঠাকুরবাড়ির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য মিশে আছে এই மண்ணের সাথে। কবিগুরুর পাশাপাশি তাঁর ভাইপো, বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ও লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অজস্র স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই স্থানের প্রতিটি ধূলিকণায়।
অবনীন্দ্রনাথের পুত্র অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর তৈরি করেছিলেন এই ‘আবাস’। তিনিও দীর্ঘকাল এই বাড়িতে কাটিয়েছেন। আর অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে অমলিন রাখতেই এই এলাকার নামকরণ করা হয়েছিল ‘অবনপল্লী’। আজ সেই ‘অবনপল্লী’ যেন নীরব দর্শক, দেখছে তার হৃদস্পন্দন ‘আবাস’-এর নির্মম পরিণতি। স্মৃতি কি সত্যিই এত সহজে মুছে ফেলা যায়? শান্তিনিকেতনের আকাশ আজ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।