বাজারে আগুন! জামাইষষ্ঠীর আগেই সবজি ও ফলের দামে ঊর্ধ্বগতি, মাথায় হাত ক্রেতা থেকে বিক্রেতার

বাজারে গিয়ে হাঁভিশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ। সবজি থেকে ফলমূল, দামের ঊর্ধ্বগতি যেন থামার নাম নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

প্রতিদিনের রান্নার প্রয়োজনীয় সবজির দামেও লেগেছে ছ্যাঁকা। এক আঁটি ধনে পাতা কিনতে এখন পকেট থেকে খসাতে হচ্ছে ১২ টাকা, যা কিছুদিন আগেও অনেক কম ছিল। কারি পাতার দাম আকাশছোঁয়া। আগে কেজি প্রতি ৩০ টাকা থাকলেও, এখন খুচরো বাজারে তা পৌঁছে গিয়েছে ৫০ টাকায়। সামান্য কয়েকটি পাতার জন্য এত দাম দেখে চোখ কপালে উঠছে ক্রেতাদের।

তবে, কুমড়ো, বাঁধাকপি ও করলার দাম এখনও কিছুটা সহনীয় বলা চলে, যদিও এই তিনটি সবজির দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রতি সপ্তাহেই ৫ থেকে ১০ টাকা করে দাম বাড়ছে এই সবজিগুলির। বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষার আগে এই দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, বেবি কর্ন, ক্যাপসিকাম, বাটার বিনস ও বেগুনের মতো কিছু ‘প্রিমিয়াম’ সবজির দাম ঘোরাফেরা করছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। আগে যেগুলি ৩০-৩৫ টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলি এখন প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। শহরের কিছু বাজারে ক্যাপসিকামের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

শুধু সবজি নয়, ফলমূলের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আপেল, আঙ্গুর, কমলালেবুর মতো ফলগুলির দাম ২০-৩০ শতাংশ বেড়েছে। স্থানীয় হকাররা জানাচ্ছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকার কারণে খুচরো বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতারা।

এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়ার পরিবর্তন, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, চাষের খরচ বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা—এইসব কারণ সম্মিলিতভাবে দাম বাড়াতে সাহায্য করছে। অনেক চাষি জানাচ্ছেন, বীজ, সার ও সেচের খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই ফসলের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি এই বিষয়ে নজরদারি না বাড়ায়, তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধি চলতেই থাকবে। কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন, যাতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান এবং সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা চলতে থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলে অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে যাবে।

সবমিলিয়ে, সবজি ও ফলমূলের এই লাগামছাড়া দামবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। দ্রুত কোনও পদক্ষেপ না নিলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।