ভয়াবহ নৃশংসতা চন্দননগরে! স্ত্রী-কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী প্রৌঢ়, আসল কারণ খুঁজছে পুলিশ

চন্দননগরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্ত্রী ও কন্যাকে শাবল দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার পর এক প্রৌঢ়ের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার গভীর রাতে হুগলি জেলার এই শহরে ঘটনাটি ঘটে। মৃতরা হলেন ৬১ বছর বয়সী বাবলু ঘোষ, তাঁর ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী প্রতিমা ঘোষ এবং তাদের ১৩ বছর বয়সী কন্যা পৌষালি ঘোষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবলু ঘোষের বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার দেনা ছিল। সেই আর্থিক কষ্টের জেরেই মানসিক অবসাদ থেকে তিনি প্রথমে স্ত্রী ও কন্যাকে খুন করেন এবং পরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিক অনুমান। যদিও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে চন্দননগর থানার কলুপুকুর গড়ের ধার এলাকার একটি বাড়িতে একই পরিবারের তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চন্দননগর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাবলু ঘোষ আগে একটি টিনের বাক্স তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। এরপর টোটো চালালেও পরে সেটি বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে একটি ছোট দোকান চালাতেন এবং স্থানীয়দের কয়েকজন দাবি করেছেন যে তিনি সাট্টার প্যাডও লিখতেন।
বাবলুর পরিচিত একজন জানিয়েছেন, “ওরা এমনিতে খুব ভালো ছিল। প্রায়ই ধারদেনা নিয়ে চিন্তার কথা বলত। আমি বলতাম সব ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তা করিস না। কিন্তু এমন একটা কাজ যে করে ফেলবে, সেটা বুঝতে পারিনি।”
অন্য এক প্রতিবেশী জানান, “বুধবার, বাবলু এবং ওর স্ত্রীকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সুইচড অফ দেখাচ্ছিল বারবার। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কাচ ভেঙে দেখে, তিনজন পুরো অচৈতন্য অবস্থায় ঘরে পড়ে আছে। তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।”
আজ সকালে ঘটনাস্থলে যান চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “গোটা ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ধারদেনা? না কি অন্য কোনও কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আপাতত ঘটনাস্থল থেকে একটি শাবল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
এই ঘটনাটি সাম্প্রতিককালে হরিয়ানার পঞ্চকুলা এবং কলকাতার ট্যাংরার অনুরূপ ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে, যেখানে ঋণের দায়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল। গত সোমবার হরিয়ানার পঞ্চকুলায় ঋণের দায়ে একটি পরিবারের সাত সদস্য বিষ খেয়েছিলেন, যার মধ্যে তিন শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ট্যাংরায় ঋণগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছিল।
চন্দননগরের এই ভয়াবহ ঘটনা ফের একবার আর্থিক কষ্টের চরম পরিণতি এবং পারিবারিক সম্পর্কের উপর তার ভয়াবহ প্রভাবের দিকে আঙুল তুলল। পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।