“ও পারে আবার ক্যাম্পে হাজির জঙ্গিরা!”-করছে ভারতে অনুপ্রবেশের ছক?

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিজেদের ৯টি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর সাময়িক পিছু হটলেও, ফের পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং পাকিস্তানের কিছু অংশে লস্কর-ই-তৈবা, হিজবুল মুজাহিদিন এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি নতুন করে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গিদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ইন্টারসেপ্ট করে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে থাকা বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের পুরোদস্তুর প্রশিক্ষণও শুরু হয়ে গিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ভারতে অনুপ্রবেশ এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো।

এই বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে ‘স্পেসিফিক অ্যাকশনেবল ইনপুট’ এসেছে, যার ভিত্তিতে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে এই ইনপুট বিএসএফ এবং সেনার সর্বোচ্চ স্তরে শেয়ার করা হয়েছে। এর পরেই সীমান্তে সতর্কতা আরও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এমনিতেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে বিএসএফ এবং সেনার সবক’টি শাখা (আর্মি, এয়ারফোর্স ও নেভি) ‘ফুল অ্যালার্ট’ পজিশনেই রয়েছে।

বিএসএফ-এর জম্মু ডিভিশনের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ বলেছেন, “বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, জঙ্গিরা ভারতে অনুপ্রবেশ করার জন্য লাগাতার চেষ্টা করছে। এরা তাদের ক্যাম্পে ফিরে এসেছে, সেখানে প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। ঠিক ক’জন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ইনপুট এখনও পাইনি।” তিনি অনুমান করছেন, “জঙ্গিরা কয়েকটা জায়গাকে অনুপ্রবেশের জন্য নিরাপদ বলে মনে করে। গত কয়েক দশকের অনুপ্রবেশের ধারা থেকে সেটা আমরা বুঝতে পারি। এই জায়গাগুলো থেকে খুব বেশি ডিভিয়েট করে না ওরা। ফলে, নিয়ন্ত্রণরেখার সেই সব জায়গায় জওয়ানদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”

গত ১০ মে সিজ়ফায়ার ঘোষণার সময়েই ভারতের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, এর পর পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী যে কোনও জঙ্গি কার্যকলাপকে ‘অ্যাক্ট অফ ওয়ার’ হিসেবেই ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং জানিয়েছেন, জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতা দেশকে ভারত পৃথক করে দেখবে না এবং প্রয়োজনে ফের যে কোনও জায়গায় প্রত্যাঘাত করবে।

তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং বারবার এমন সতর্কবার্তার পরেও জঙ্গিরা যে শিক্ষা নেয়নি, সাম্প্রতিক সক্রিয়তার খবর থেকেই তা পরিষ্কার। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতীয় বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। তেমন কিছু ঘটলে প্রত্যাঘাত স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

এ দিকে, জুলাইয়ের ৩ তারিখ থেকে জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হবে অমরনাথ যাত্রা, যা চলবে ৯ অগস্ট পর্যন্ত। অতীতে বেশ কয়েকবার পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি অমরনাথ যাত্রাকে টার্গেট করেছে, যার ফলে বেশ কিছু তীর্থযাত্রীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। গত বছর অমরনাথ যাত্রায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, পহেলগামে নৃশংস জঙ্গি হামলার পরেও এ বছর ইতিমধ্যে সাড়ে তিন লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এখনও চলছে, ফলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

পহেলগাম জঙ্গি হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে এবারের অমরনাথ যাত্রার তাৎপর্য ভিন্ন। সরকার যেকোনো মূল্যে এবারের যাত্রাকে নিরাপদ রাখতে চায়, কারণ এটি জঙ্গিদের প্রতি আরও একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে। তাই হাতে সময় থাকতেই অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা ফুল প্রুফ করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, জঙ্গিরা অমরনাথ যাত্রাকে ‘সফ্‌ট টার্গেট’ হিসেবে বেছে নিতে পারে। তবে বিএসএফ আইজি শশাঙ্ক আনন্দ পুণ্যার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “অমরনাথ যাত্রা আমাদের সকলের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। আমরা চাই, যত বেশি সম্ভব ভারতীয় এ বারের যাত্রায় অংশ নিন।” তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে দুশ্চিন্তা না করারও আশ্বাস দিয়েছেন।