চালু হতে চলেছে ‘স্মার্ট মিটার’, চাকরি যেতে পারে অসংখ্য মিটার রিডার কর্মীর? বাঁচার রাস্তা কি?

রাজ্যজুড়ে চালু হতে চলেছে আধুনিক ‘স্মার্ট মিটার’ ব্যবস্থা, যা বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির আগমন একই সাথে হাজার হাজার মিটার রিডিং কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

কীভাবে কাজ করবে স্মার্ট মিটার?

স্মার্ট মিটার এক ধরনের উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ খরচ, ভোল্টেজ এবং অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করে সরাসরি বিদ্যুৎ দফতরের অফিসে পাঠাবে। এর ফলে বিদ্যুৎ কর্মীদের আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখতে হবে না। এমনকি অফিস থেকেই এই মিটার চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

এই মিটারে একটি সিম কার্ড থাকবে, যা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। যদি কোনো গ্রাহক অগ্রিম টাকা পরিশোধ না করেন, তবে অফিস থেকেই তাঁর মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে। তবে, টাকাপয়সা না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে, যা পরে পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানের প্রচলিত মিটারগুলিতে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বা তথ্য সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই, স্মার্ট মিটার এই সমস্যা দূর করবে।

স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে সরাসরি প্রভাব পড়বে ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে কর্মরত হাজার হাজার মিটার রিডার কর্মীর ওপর। কলকাতায় প্রায় এক হাজার কর্মীর চাকরি চলে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করছেন, স্মার্ট মিটার বসানোর ফলে তাঁদের আর কাজে লাগছে না এবং সংস্থা তাঁদের অন্য কোনো কাজও দিচ্ছে না। যদিও ঠিকাদার সংস্থাগুলির দাবি, তাদের কেবল মিটার রিডিংয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন না থাকায় নতুন কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিদ্যুৎ দফতরের এক ঠিকাদার, গোপাল বিশ্বাস বলেন, “আমাদের প্রায় দেড় হাজার কর্মীর চাকরি চলে যেতে পারে। তাই আমরা আন্দোলনের কথা ভাবছি।” ইতিমধ্যেই শহর ও আশপাশের এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ দফতরের এক আধিকারিক জানান, “অনেকেই এখনও বুঝতে পারছেন না স্মার্ট মিটার কী, তাই রাজি হচ্ছেন না। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। এই মিটার বসালে গ্রাহকরা অনেক সুবিধা পাবেন।” গ্রাহকরা সরাসরি তাদের বিদ্যুৎ খরচ ট্র্যাক করতে পারবেন, বিলিং-এ স্বচ্ছতা আসবে এবং বিদ্যুৎ চুরিও কঠিন হবে।

তবে এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনে কাউকে জোর করে স্মার্ট মিটার নিতে বাধ্য করা যায় না। কিন্তু রাজ্য সরকার জোর করে মানুষকে এই মিটার নিতে বাধ্য করছে। এর ফলে কৃষিকাজ, দোকান চালানো বা বাজারের মতো কাজে অনেক সমস্যা হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। বিরোধীদের দাবি, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত। গ্রাহকদের একাংশ ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন যে, জোর করে স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে এবং এতে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ করে বেড়ে যাচ্ছে।